দুর্গাপুজোর মরসুম মানেই নতুন পোশাক, নতুন জুতো, আর ভিড় জমা প্যান্ডেলে সারাদিন ঘোরা। সকাল থেকে রাত অবধি একের পর এক প্যান্ডেল হপিং করতে গিয়ে অগুনতি মানুষ বেরোন পথে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, অনেক সময়েই এই আনন্দের মাঝেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পায়ের সমস্যা। নতুন জুতো পরে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার ফলে অনেকের পায়ে ফোসকা হয়ে যায়। ব্যথা, জ্বালা আর হাঁটাচলায় অস্বস্তির কারণে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, ফোসকা পরার সবচেয়ে বড় কারণ হল নতুন জুতোর শক্ত অংশ পায়ের নরম ত্বকের সঙ্গে ঘষা খাওয়া। কয়েক মিনিট হাঁটলেই ঘর্ষণের ফলে ফোসকা তৈরি হয়। অনেকেই এটাকে হালকা ভাবে নেন, কিন্তু এ সমস্যা অবহেলা করলে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ফোসকা দেখা দিলেই যত্ন নেওয়া জরুরি।
ফোসকা হলে কী করবেন?
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ উৎসব দাস জানালেন, কিছু সাধারণ নিয়ম মানলেই দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব।
১. প্রথমেই ফোসকা হওয়া জায়গাটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।
২. চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিকেটেড অ্যালোভেরা জেল বা অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো দ্রুত আরাম দেয় এবং ক্ষত শুকোতে সাহায্য করে।
৩. বাইরে বেরোতে হলে ফোসকা ঢাকা জায়গায় ব্যান্ডেড লাগানো ভালো। তবে চেষ্টা করুন, যে জুতোতে সমস্যা হয়েছে তা আপাতত আর না পরতে।
প্রতিরোধই সেরা সমাধান
ফোসকা এড়াতে হলে আগেভাগেই সাবধান হতে হবে। নরম ও আরামদায়ক জুতো বেছে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি। নতুন জুতো কিনলে পুজোর আগেই কয়েকদিন অল্প সময়ের জন্য পরে নিন। এতে জুতোর শক্ত অংশ নরম হয়ে যায় এবং পায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। ফলে ঠাকুর দেখার দিন দীর্ঘক্ষণ হাঁটলেও ফোসকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা
যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাধারণ জুতো না পরে ডায়াবেটিক শ্যু ব্যবহার করুন। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ছোট একটি ফোসকাও মারাত্মক ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। তাই এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুনঃ Lifestyle: বিরিয়ানী-রোল খেয়ে গ্যাস, অম্বল ডায়রিয়ার সমস্যা? আর নেই চিন্তা! পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন ডাক্তারি পরামর্শ
পুজোর আনন্দ নষ্ট হোক কে চায়? তাই প্যান্ডেলে বেরোনোর আগে শুধু সাজপোশাক নয়, পায়ের আরামের দিকেও নজর দিন। একটু সচেতন হলেই ফোসকার সমস্যাকে দূরে রাখা যায়। আর যদি হয়েও যায়, প্রাথমিক যত্নে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে।





