এবার ওয়াইফাই ব্যবহার করার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের লিখিত আবেদন, কিন্তু হঠাৎ কেন এমন ব্যবস্থা?

ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য লিখিত আবেদন। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের প্রত্যেককে জানাতে হবে যে শিক্ষামূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনও কাজে নিরখরচায় ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট ব্যবহার তারা করবে না।

প্রায় দু’বছর হতে চলল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তবে ক্যাম্পাসের ওয়াইফাই চালু রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য, ক্লাস না হলেও দুস্থ পড়ুয়ারা যাতে অনলাইন ক্লাস করতে সমস্যায় না পড়ে। কিন্তু এর ফল হল বিপরীত।

দেখা যাচ্ছে রাতদিন ক্যাম্পাসের বাইরে-ভিতরে চুটিয়ে খেলা হচ্ছে অনলাইন গেম। অনেকে আবার বুঁদ হয়েছে নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজন প্রাইমের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। এদের সকলেই যে পড়ুয়া তেমনটাও নয়। স্থানীয় দোকানদার থেকে শুরু করে অনেকেই আবার নিরখরচার ইন্টারনেটে ডাউনলোড করছেন নীল ছবিও।

সার্ভারে এতটাই চাপ বেড়ে যাচ্ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কাজ করতে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এই কারণে একরকম বাধ্য হয়েই কর্তৃপক্ষের তরফে ওয়াইফাই-এর পাসওয়ার্ড বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ও গবেষণা, প্রত্যেক পড়ুয়াকেই আবেদনের ভিত্তিতে নতুন পাসওয়ার্ড জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তের জেরে যারা পড়ুয়া নন অথচ নিরখরচায় ইন্টারনেট ব্যবহার করছিলেন, তারা নিঃসন্দেহে অসুবিধায় পড়বেন। তবে সহ-উপাচার্য সামন্তক দাস জানাচ্ছেন যে এছাড়া আর কোনও উপায়ও ছিল না।

তিনি বলেন, “বন্ধুত্বের খাতিরে হয় তো আমাদের ইন্টারনেট পাসওয়ার্ড কেউ শেয়ার করে ফেলছিল। বাইরে এতটাই তা বেশি করে ব্যবহৃত হচ্ছিল যে পাসওয়ার্ড বদলানো ছাড়া উপায় ছিল না”।

কিন্তু এরপরও যে নিখরচার ইন্টারনেটের পাসওয়ার্ড বাইরে যাবে না এর গ্যারান্টি তো নেই। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষকদের আবেদনপত্রের আলাদা বয়ান তৈরি হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানদের সই করার জন্য জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেককে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে, অ্যাকাডেমিক বিষয় ছাড়া কেউ অন্য কোনও কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না।

RELATED Articles