কলকাতার দুর্গা পুজোর সময় অনুদান বিতরণের প্রথা নতুন নয়, তবে এবার আদালত সরাসরি রাজ্যের ক্লাবগুলিকে হিসাব দিতে বাধ্য করতে চাচ্ছে। প্রতি বছর যেমন অনুদানের পরিমাণ বাড়ছে, এবার সেই প্রথা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ জানতে চাচ্ছে, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না, এবং রাজ্য সরকার কি পর্যাপ্ত তদারকি করছে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বছর পুজোর জন্য ঘোষণা করেছেন, প্রতি ক্লাবকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই অনুদানের হিসাব কি আদৌ প্রকাশ্যে আসছে? কতগুলি ক্লাব ঠিকমতো অর্থের হিসাব দিচ্ছে, আর কারা দিচ্ছে না, সেই বিষয়েই এবার আদালত নজর দিয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ, বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে, সোমবার এই মামলার শুনানি করেন। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা অনুদান নিয়ে যথাযথ হিসাব দিচ্ছে না, তাদের বিষয়ে প্রয়োজন হলে অনুদান বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আদালতের নির্দেশ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যকে বিস্তারিত হলফনামা দিতে হবে, যাতে জানা যায় গত বছর পর্যন্ত কোন ক্লাবগুলি হিসাব দিয়েছে এবং কোনগুলি দেয়নি।
রাজ্যের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, অনুদান বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই, তাই পুজোর পরে বিষয়টি আলোচনা করা হোক। তবে বিচারপতি পাল তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের উপর জোর দিয়েছেন। আদালতের যুক্তি, পুজোর পর বিষয়টি পিছিয়ে দিলে মামলার গুরুত্ব থাকবে না, কারণ আগেই ক্লাবগুলিকে হিসাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ, জীবনের মঞ্চ থেকে চিরবিদায় নিলেন জয় ব্যানার্জি
এর আগে বহু ক্লাব হিসাব দিচ্ছে না এমন অভিযোগ উঠেছিল। এবার আদালত চাচ্ছে, রাজ্য হলফনামার মাধ্যমে জানাবে কোন ক্লাব হিসাব দিয়েছে, কোনটি দেনি এবং যারা দেনি তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার সেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে, যা দিয়ে এই বিতর্কের পরিসর পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই পদক্ষেপ দেখাবে, শুধুমাত্র অর্থ বিতরণ নয়, তার যথাযথ ব্যবহার নিয়েও নজরদারি করছে আদালত।





