Bangladesh : “স্বাধীনতার যোদ্ধা হিসেবেও রক্ষা পেলেন না!”—রংপুরে সস্ত্রীক হিন্দু শিক্ষককে গলা কেটে খু*ন, জামায়াত সন্ত্রাসীদের ছায়া ঘিরে তীব্র প্রশ্নে উত্তাল বাংলাদেশ!

রংপুরের সীমান্তঘেরা শান্ত গ্রামগুলো রাত নামলেই নীরবতায় ঢেকে যায়। চারদিকে অন্ধকারে ঢেকে থাকা সেই নীরবতার মাঝেই কখনও কখনও ঘটে এমন কিছু, যা পুরো এলাকার মানুষকে নাড়িয়ে। ঠিক তেমনই এক ভয়াবহ ঘটনার কথা রবিবার সকালে জানাজানি হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। কেউ ভাবতেও পারেননি, বহুদিন ধরে শান্তিতে থাকা এক পরিবারকে এভাবে শেষ করে দেবে অজ্ঞাত আততায়ী।

সকাল গড়ালেও যখন বাড়ির ভেতর থেকে কোনও সাড়া মিলছিল না, তখনই উদ্বেগ বাড়তে থাকে আশপাশের মানুষের। অনেক ডাকাডাকির পরও কিছু না শোনা গেলে এক প্রতিবেশী মই বেয়ে বাড়িতে ওঠেন। তার পরই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে রাতের রক্তাক্ত ঘটনাচক্র। ডাইনিং রুমের মেঝেতে রক্তে ভেজা অবস্থায় পড়ে ছিলেন বাড়ির কর্তা। রান্নাঘরের দিকেও চোখ যেতেই আরও বড় শোকের ছবি ফুটে ওঠে। দু’টি প্রাণ একসঙ্গে নিভে যাওয়ার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল চারদিকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুন হওয়া প্রবীণ ব্যক্তি যোগেশচন্দ্র রায়—বয়স ৭৫। পেশায় ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেশের জন্য লড়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়, বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই। বহুদিন ধরেই এই দম্পতি দু’জনে একাই বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের দুই ছেলে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে চাকরি করেন। গভীর রাতে কীভাবে বাড়ির ভেতরে ঢুকল হামলাকারীরা, তা নিয়ে এখনই কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবেই দুজনকে টার্গেট করা হয়েছিল। রাতে তারা যখন ঘুমোচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মাথায় আঘাত করে খুন করা হয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। জমে ওঠা সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে স্থানীয়দের বক্তব্যে—কারণ এলাকায় নাকি মাঝেমধ্যেই উগ্র সন্ত্রাসী চক্রের গতিবিধি দেখা যায়। এই ঘটনার পিছনে জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হাত থাকতে পারে বলেই ধারণা করছে একাধিক সূত্র।

আরও পড়ুনঃ ৯৩ বছরের বৃদ্ধার ঠিকানা বাঁচাতে মানবিক লড়াই BLO-র

ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। কারা এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটাল, তা জানতে চলছে জোর অনুসন্ধান। শান্ত একটি গ্রামে এমন নির্মম হত্যায় মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু কেন? কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য—উত্তর এখনও অন্ধকারেই। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, খুব শিগগিরই এই নৃশংস ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles