কলকাতার রাজনীতি গত দু’দিন ধরে যেন আরও একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ—এই বিরাট আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, পরে তর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমন্ত্রণ পেলেও কেন তিনি সেই অনুষ্ঠানে যাননি, সেই প্রশ্ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও জল্পনা বাড়ছিল। ঠিক সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মুখ খুলে দিলেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা।
গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই বিজেপির একাংশ নেতারা সরাসরি মমতাকে আক্রমণ করেন। সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন—হিন্দু ভোট নাকি আর বিশ্বাস রাখে না মুখ্যমন্ত্রীর উপর। এমন মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ঠিক এমন আবহে সোমবার কোচবিহার রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, আমন্ত্রণ পেলেও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট মঞ্চে তিনি যেতে পারেন না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল আরও কড়া। তাঁর দাবি—গীতাপাঠের আয়োজনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে বিজেপি। তাই এমন অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেননি। মমতার কথায়, “এটা যদি নিরপেক্ষ কোনও অনুষ্ঠান হত, তাহলে আমি যেতাম। কিন্তু বিজেপির প্রোগ্রামে কীভাবে যাই! আমার তো একটা আদর্শ আছে।” এখানেই থামেননি তিনি। বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ বলেও আক্রমণ করেন। আরও বলেন, তাঁর পরিবার তাঁকে কখনও বিভাজনের রাজনীতি শেখায়নি।
এদিকে, বিজেপির আক্রমণও কমেনি। সুকান্ত মজুমদার ফের দাবি তুলেছেন—একুশের ভোটে নাকি অধিকাংশ হিন্দু ভোট মুখ্যমন্ত্রীকে দেয়নি। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ মন্তব্য টেনেও তিনি মমতাকে কটাক্ষ করেন। এরই মধ্যে ব্রিগেডের মঞ্চে বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী হিন্দু রাষ্ট্রের পক্ষে সওয়াল করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেন। বাংলাকে একজোট করার তাঁর আহ্বানও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : “স্বাধীনতার যোদ্ধা হিসেবেও রক্ষা পেলেন না!”—রংপুরে সস্ত্রীক হিন্দু শিক্ষককে গলা কেটে খু*ন, জামায়াত সন্ত্রাসীদের ছায়া ঘিরে তীব্র প্রশ্নে উত্তাল বাংলাদেশ!
সব মিলিয়ে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি ফের সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—তাঁর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি রাজনৈতিক আদর্শের জায়গা থেকে নিয়েছেন। তবে বিজেপির তরফে লাগাতার কটাক্ষ চলতে থাকায় আগামী দিনে এই নিয়ে আরও তীব্র রাজনৈতিক তরজার সম্ভাবনাই বেশি।





