শনিবার সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকা কার্যত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখে পড়ে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পথচারী ও যাত্রীরা হঠাৎকারি সড়কে জমা মানুষের ঢল ও গাড়ির দীর্ঘ সারিতে বিপাকে পড়েছেন। সকাল ১১টার পর থেকেই বড়ুয়া মোড় থেকে রেজিনগর পর্যন্ত রাস্তার কলকাতামুখী লেনে গতি প্রায় থেমে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জটের পেছনে মূল কারণ হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের শিলান্যাস। পূর্বঘোষিত এই অনুষ্ঠানের জন্য এলাকায় প্রচুর মানুষ সমবেত হয়েছেন। যেহেতু শিলান্যাসের স্থান জাতীয় সড়ক থেকে মাত্র ৩০০-৪০০ মিটার দূরে, তাই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা মানুষ এবং গাড়ি মিলিত হয়ে সড়ককে কার্যত অচল করে দিয়েছে। ধীরে ধীরে প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সড়কের পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন পিছনের গাড়িগুলি দাঁড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ শেষ পর্যন্ত সাত-আট কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সভাস্থলে পৌঁছতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ পাশের কৃষিজমির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন। এমনকি কিছু মানুষ মাথায় ইট নিয়ে মসজিদ নির্মাণের জন্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বিকেলের আগে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলের প্রত্যাশা খুব কম। পলাশি থেকে কিছু গাড়িকে বিকল্প পথে পাঠানো হয়েছে, তবুও জমা মানুষ এবং গাড়ির চাপ পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বহির্গামী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকা পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : ৩০০ কোটি টাকার ‘বাবরি প্রজেক্ট’! শিলান্যাস মঞ্চ থেকেই ২২ তারিখে নিজের দল ঘোষণার ইঙ্গিত হুমায়ুনের!
এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান এবং এর প্রভাব শুধুই স্থানীয় নয়, বরং মুর্শিদাবাদের প্রধান জাতীয় সড়কের এক বড় অংশকে অচল করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। ট্রাফিক ও জনজীবনের এই চিত্র শনিবার সারাদিন ধরে এলাকায় বিরাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।





