মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনার ভিড়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল বেলডাঙা। ছেতিয়ানি মোড়ের পাশে তৈরি হওয়া এক মঞ্চে শনিবার দুপুরে জমায়েত হয়েছিল হাজারো মানুষ। এলাকায় কয়েক দিন ধরেই শিলান্যাসের প্রস্তুতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছিল। ঠিক কী ঘোষণা হতে পারে, তা জানতে বহু মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন।
দুপুর গড়াতেই মঞ্চে পৌঁছন হুমায়ুন কবীর। তার আগে সৌদি আরব থেকে আসা দু’জন ধর্মীয় নেতা এবং কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী আলি আফজল চাঁদ সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হন। কোরআন পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপরই ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে মূল ঘোষণা, যা ঘিরে এলাকায় আলোচনা আরও তীব্র হয়।
হুমায়ুন মঞ্চে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, শুধু মসজিদ নয়, গোটা এলাকাকে ঘিরে তৈরি হবে বিশাল প্রকল্প। তাঁর বক্তব্য, ৫০০ সজ্জার একটি হাসপাতাল, একটি মেডিক্যাল কলেজ, একটি পার্ক, রেস্তরাঁ, এমনকি একটি হেলিপ্যাডও গড়ে তোলা হবে। দাবি করেন, প্রকল্পের মোট বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। উপস্থিত মানুষের সামনে তিনি আরও জানান— এই প্রকল্পে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
মঞ্চে তখন আরও এক ঘটনা নজর কাড়ে। এক ব্যক্তি সবার সামনে এসে জানান, তিনি এই প্রকল্পের জন্য ১ কোটি টাকা দান করছেন। হুমায়ুন বলেন, একজন শিল্পপতি নাকি তাঁকে ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ দিন অনেকে মাথায় করে ইট এনে শিলান্যাসে অংশ নেন— যা গোটা অনুষ্ঠানকে আরও প্রতীকী করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : “রাজনৈতিক কারণে মসজিদ করছি না”—দাবি হুমায়ুনের! “উনি কি মন্দির বানাতেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন?”— মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তির্যক প্রশ্ন হুমায়ুনের!
শেষে হুমায়ুন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন। জানান, আগামী ২২ তারিখ বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে তিনি তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করবেন। তবে সেদিনের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আজ রাজনীতির কথা নয়। বাবরি মসজিদ হবে, হবে এবং হবে। এটা মুসলমানের সম্মানের লড়াই।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদে।





