গরমের দিনে রাস্তায় কাজে বেরিয়ে তীব্র রোদের মধ্যে ঘুরে আমাদের সকলেরই ইচ্ছা হয় ঠাণ্ডা জল বা শরবত খাওয়ার। প্রখর দাবদাহে একমাত্র ঠাণ্ডা শরবত বা লেবুর জলই তৃষ্ণা নিবারণ করে সকলের। কলকাতার রাস্তায় এমন শরবত বা ঠাণ্ডা লেবুর জলের ঠেলাগাড়ি অসংখ্য দেখা যায়। গ্রীষ্মের দাবদাহে গলা ভেজাতে সেই ঠাণ্ডা শরবত অমৃতের সমান বলা যায়। কিন্তু গরমের থেকে বাঁচতে অজান্তেই বিষপান করছেন না তো?
শুধুমাত্র কলকাতা কেন, এই গরমের দিনে নানান জায়গাতেই ঠেলাগাড়ি করে বিক্রি হয় ঠাণ্ডা শরবত বা লেবুর জল। বরফ দিয়ে তৈরি সেই লেবুর জল বা শরবত খেতে মন্দ লাগে না কারোরই। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কী, সেই বরফ এল কোথা থেকে? যে বরফ শরবত তৈরির জন্য দেওয়া হল, তা আদৌ খাওয়ার যোগ্য তো? নাকি তা অন্য কাজে ব্যবহার হয়ে হাতঘুরে সেখানে এসেছে?
রাস্তার ধারে এই সমস্ত ঠেলাগাড়িতে শরবত তৈরির জন্য যে সমস্ত ব্যবহার করা হয়, তা আসলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বরফ অর্থাৎ বাণিজ্যিক কাজে তা ব্যবহার করার কথা। এই যেমন ধরুন মাছ চাপা দেওয়া কাজে, কোনও পণ্য ভালো রাখতে তা বরফ দিয়ে ঠাণ্ডা রাখার কাজে ব্যবহার হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল বরফ। আবার মর্গে মৃতদেহ সতেজ রাখতেও কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল বরফই ব্যবহার করা হয়।
সেই বরফই আবার হাতঘুরে আসে এই সমস্ত শরবত বিক্রেতাদের কাছে যা দিয়ে তারা গরমের দিনে আপনার তৃষ্ণা নিবারণ করে থাকেন। তাহলে একবার ভেবে দেখুন তো, যে বরফ দিয়ে মৃতদেহ চাপা দেওয়া হচ্ছে, সেই বরফই আবার লেবুর জল বা শরবতের সঙ্গে পান করে গরমের দিনে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন আপনি।
কী? ভাবলেই বুকটা কেঁপে উঠল তো? এমনই হয়ে থাকে সচরাচর। এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। খুব কম জায়গাই রয়েছে যেখানে খাবার যোগ্য বরফ ব্যবহার করেই বানানো হয় শরবত বা লেবুর জল। শুধুমাত্র ঠেলাগাড়ির বিক্রেতাদের দোষ দিলে কিন্তু হবে না। বড় রেস্তোরাঁতেও এই একই পদ্ধতি চালু কী না, তা তো আর জানা নেই।
খোলা চোখে আমরা রাস্তার ধারে এমন দেখছি তাই, কিন্তু এমন অনেক ঘটনাই আমাদের আড়ালে ঘটে যায় যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। কিন্তু তা ঘটছে তো! জানা যাচ্ছে, ৩০-৪০ টাকা দিয়ে চাঁই চাঁই বরফ কেনেন এই ঠেলাগাড়ির বিক্রেতারা। আর তাতে লেবু, বিটনুন, স্যাকারিন, জল, জলজিরা মিশিয়ে ২০-৩০ টাকার বিনিময়ে আপনার হাতে তুল দেন তৃষ্ণা মেটাতে। এরপর থেকে সেই ঠাণ্ডা জলের গ্লাস হাতে তুলে নেওয়ার আগে মৃতদেহে বরফ চাপা দেওয়ার বিষয়টা মাথায় একবার আসবে তো আপনার? তখন আর মন চাইবে, সেই ঠাণ্ডা জল গলায় ঢালতে? ভেবে দেখুন!





