গত কয়েকদিনে দেশের বিমান যাত্রীরা অভূতপূর্ব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ায় প্রায় ৯ লক্ষ মানুষ এই পরিস্থিতিতে চরম অসুবিধায় পড়েছেন। সাধারণ যাত্রী থেকে ব্যবসায়ী সকলেই এই ঘন্টা-ঘণ্টার দেরিতে বিমান ছাড়ার কারণে হতাশ। কিন্তু এই ঘটনা কি শুধুই আকস্মিক? পাইলটদের সংগঠনের দাবি, তা মোটেই নয়।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটসের (FIP) সভাপতি ক্যাপ্টেন সিএস রণধাওয়ার মতে, ইন্ডিগোর এই যাত্রা-বিভ্রাট কোনো হঠাৎ ঘটমান ঘটনা নয়। তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে চলা বিভিন্ন সমস্যা ও নিয়ম শিথিল করার চেষ্টা মিলে এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল ফ্লাইট ডিউটি টাইমের সীমা বাড়িয়ে পাইলটদের আরও দীর্ঘ সময় কাজ করানো।
রণধাওয়ার আরও অভিযোগ, এই গোলযোগ পূর্বপরিকল্পিত। সংস্থার কাছে যথেষ্ট বিমান এবং কর্মী থাকা সত্ত্বেও উড়ান বাতিল হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রথম দিন থেকেই বলছি, এটি সংস্থার ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ। তারা জানতেন কর্মী সংকট ও সফটওয়্যার সমস্যা কতটা বড় হতে পারে, তবুও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।” এই কারণে তিনি এটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উড়ান বাতিল ও বিলম্বের প্রভাব শুধু যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিকভাবে যাত্রীদের ওপর চাপে পড়েছে। রণধাওয়ার দাবি, ইন্ডিগোর শীর্ষ পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করা উচিত। সংস্থার এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে, এবং যাত্রীদের ওপর মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ SIR in west bengal : বাংলায় তালিকা ঘোষণার আগেই নামছে কমিশনের ‘পঞ্চপাণ্ডব’! SIR প্রক্রিয়ায় নজরদারিতে আরও কড়া ব্যবস্থা!
শেষে তিনি বলেন, “এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। যারা যাত্রীদের সুরক্ষা এবং সুবিধার জন্য দায়িত্বশীল, তাদেরকে এ ব্যাপারে সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে।” পাইলটদের এই অভিযোগ ও তদন্তের দাবিতে এখন দেশের বিমান শিল্পের নজর আরও কড়া হতে চলেছে। যাত্রী এবং পাইলটদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা এখন প্রধান দাবি।






