যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মানেই পড়াশোনা আর স্বাধীন মতের পরিসর—এই ভাবনা বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে সমাজে। তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পড়ুয়া থেকে অধ্যাপক, প্রত্যেকেই এখন নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অনেক জায়গায় ঝোপঝাড় আর আবর্জনা জমে আছে। অভিযোগ উঠেছে, সেইসব নির্জন জায়গা নাকি মদের আসর বসার কাজে ব্যবহার করা হয়। এই কারণেই কর্তৃপক্ষ ঝোপঝাড় কাটার ও আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য টেন্ডার ডেকেছে। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেন্ডার জমা নেওয়া হবে, এরপরেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা।
ঘটনার সূত্রপাত আসলে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের পাশে ঝিল থেকে উদ্ধার হয় তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের দেহ। ওই রাতে পার্কিং লটে একটি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মদের আসর বসেছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন ঘনাচ্ছে। এই মৃত্যুই পুরো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঝোপঝাড়ের আড়ালে নেশার আসর জমে ওঠে। তাই সেই সম্ভাবনা বন্ধ করার জন্যই ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের আচরণে নজর রাখতে নতুন ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, একজন প্রফেসর ২০ জন পড়ুয়ার দিকে খেয়াল রাখবেন—কেউ যেন বিপথে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর থাকবে।
আরও পড়ুনঃ India: আমেরিকার বাড়তি শুল্ক-চাপকে উপেক্ষা করে সেপ্টেম্বরে রাশিয়ান তেল আমদানিতে রেকর্ড বাড়াল ভারত!
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি বসানো নিয়ে পড়ুয়াদের একাংশের প্রবল আপত্তি। তাঁদের দাবি, নজরদারি নাম করে ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তাই গেট ছাড়া অন্য কোথাও সিসিটিভি না বসানোর পক্ষে তাঁরা সওয়াল করেছেন। ছাত্রজীবি কমিটি জানিয়েছে, পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনাই হবে প্রথম শর্ত। ইতিমধ্যেই নজরদারির বিরুদ্ধে আগামীকাল বিকেলে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।€






