পুজোর মুখে বাংলায় এসে পৌঁছল পদ্মার ইলিশ। মঙ্গলবার রাতেই পেট্রাপোল সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকল বাংলাদেশের আটটি ট্রাক, বোঝাই প্রায় ৩৮ মেট্রিক টন রুপোলি শস্য। প্রতিবছর এই সময়েই ওপার বাংলা থেকে ইলিশ ঢোকে ভারতে। গত বছরও বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিল ইলিশ। এবারও ব্যতিক্রম হল না। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত মাতামাতির দিন কি সত্যিই ফুরোচ্ছে?
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক এ বছর মোট ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারতে। প্রথম ধাপে ঢুকল আট ট্রাক, পরে আরও দফায় আসবে মাছ। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই রপ্তানি। সরকারি হিসাবে ৩৭টি সংস্থা এই দায়িত্ব পেয়েছে। কিন্তু তাতেও দাম নিয়ে জল্পনা থামছে না। কলকাতার পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের সম্ভাব্য দর ১৬০০ টাকা। ফলে খুচরো বাজারে তা গিয়ে ঠেকতে পারে ২০০০ টাকায়। এক কেজি মাছের জন্য সাধারণ মানুষ কি সত্যিই এত খরচ করবে?
ক্লিয়ারিং এজেন্ট ফিরোজ মণ্ডল জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে আরও ট্রাক আসবে। অর্থাৎ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের বাজার ভরে যাবে পদ্মার ইলিশে। তবু এ বার আগের মতো উত্তেজনা নেই। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ক্রেতারাও তেমন উৎসাহী নন। কারণটা সহজ। এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে, সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ আর রায়দিঘি থেকে মিলেছে ভরপুর ইলিশ। ফলে ‘পদ্মার ইলিশ’ নাম শুনেই ঝাঁপিয়ে পড়ার আগ্রহ নেই তেমন।
অনেকে বলছেন, ডায়মন্ড বা কাকদ্বীপের ইলিশের রূপ-স্বাদ কিছু কম নয়। সেখানকার মাছ খেয়ে বাঙালি হাত চেটে বলেছে, ‘‘সোনার চেয়েও দামি এই রুপোলি ফসল।’’ তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, পদ্মার ইলিশের খ্যাতি কি কেবলই ব্র্যান্ড ভ্যালু? নাকি সত্যিই ওপার বাংলার মাছের স্বাদ আলাদা? যারা খেয়েছেন, তাদের একাংশ মনে করেন, পদ্মার ইলিশে অন্যরকম তেল-গন্ধ আছে। কিন্তু দাম যখন ২০০০ টাকা কেজি, তখন রসনার টান আর পকেটের হিসাব— কোনটা আগে চলবে?
আরও পড়ুনঃ Jadavpur University : যাদবপুরে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের জন্য টেন্ডার ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয়, পড়ুয়াদের মধ্যে CCTV বসানো নিয়ে আপত্তি!
অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এ বার পদ্মার ইলিশ নিয়ে মাতামাতি অনেকটাই ম্লান। আগের মতো হাহাকার, বুক ভরা নস্টালজিয়া নেই। বরং এ বার বাঙালি নিজস্ব নদীর ইলিশকেই বেশি দাম দিয়েছে। ফলে পুজোর আগে বাংলাদেশি ইলিশ ঢুকলেও বাজারে সেই পুরোনো উন্মাদনা ফিরবে কি না, তা নিয়েই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।






