যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের খুব কাছাকাছি অবস্থিত ইউনিয়ন রুমটি সম্প্রতি এক অজানা ঘটনার শিকার হয়েছে। যেখানে আগে ছিল ছাত্রদের হাসি-আড্ডা আর সময় কাটানোর জায়গা, সেখানে এখন শুধু ছড়ানো-ছিটানো আসবাবপত্র আর বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। ক্যারাম বোর্ড থেকে শুরু করে চেয়ার, টেবিল সবই এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমন দৃশ্য দেখে যে কেউ ভাববে যেন ঝড় বা কোনো সহিংস ঘটনা ঘটে গেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনেক প্রশ্ন উঠে, এই ঘটনা কবে এবং কেন ঘটল, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১টা থেকে বুধবার ভোর ৪টার মধ্যে কেউ ইউনিয়ন রুমে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তবে সেখানে তালা না থাকার কারণেই প্রবেশ করাটা সম্ভব হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ছাত্ররাই ইউনিয়ন রুমে রাতের সময় তালা দিতে রাজি নন, এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও কর্মীদের বক্তব্য। কিন্তু এত অন্ধকারে কীভাবে এমন পরিস্থিতি ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইউনিয়ন রুমের পাশে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকার কারণে হামলাকারীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ তদন্তে জড়িত থাকলেও এখনও হামলাকারীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ফলাফল হতে পারে এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, যদিও কোনো নির্বাচনের সময় এখনও আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুতই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যাতে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা যায়।
পড়ুয়ারা ইউনিয়ন রুম বন্ধ করতে রাজি নন। তাদের দাবি, রাত্রে ফোন চার্জিং থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ঘুমোতেও তারা প্রস্তুত। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা এই জায়গার যথাযথ নজরদারি না করার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। অনেকদিন ধরেই এমন অবস্থা চলছিল, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ India – pakistan : আইপিএল ফাইনালের আড়ালে ভারতের নতুন চাল? গোটা দেশ যখন ক্রিকেটে মত্ত, আর তখন ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান!
এই ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা যাতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সেই পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র সমাজের দাবি ও নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।





