গত শনিবারের বিকেলটা শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের গুড়গ্রাম এলাকায় আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে জমায়েত, মানুষের ভিড়, সাধু-সন্তদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এলাকায় ছিল উৎসবের আবহ। কিন্তু সেই শান্ত পরিবেশ যে অল্প সময়ের মধ্যেই উত্তেজনায় পরিণত হবে, তা কেউ ভাবেনি। ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে অস্বস্তি, আতঙ্ক আর প্রশ্ন—ধর্মীয় মঞ্চ কি আদৌ রাজনীতির বাইরে থাকছে?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরএসএস(RSS)-এর শতবর্ষ উপলক্ষে গুড়গ্রামে একটি ধর্মীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। শুরুতে ধর্মীয় আলোচনা চললেও পরে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। অভিযোগ ওঠে, সম্মেলন চলাকালীন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। সেই নিয়েই শুরু হয় বচসা। এক পক্ষের দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য পক্ষের অভিযোগ, ধর্মের আড়ালে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই বাকবিতণ্ডা তীব্র আকার নেয়।
বচসা ক্রমে হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ। সেই সময় এক সাধুকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে খবর। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের একাংশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পাল্টা মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতে ভগবানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
আক্রান্ত সাধুকে দ্রুত চণ্ডীপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। ঘটনায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে ঠিক কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত, কারা এর সঙ্গে জড়িত—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সেই কারণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : বৈঠকের আগেই বড় ধাক্কা! SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মমতা—কেন এত তাড়াহুড়ো বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর?
ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সুন্দর পণ্ডা বলেন, ধর্মীয় সভার নামে বিজেপি ও আরএসএস রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছিল বলেই স্থানীয়দের আপত্তি তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নামেও অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও আয়োজকদের একাংশের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম ও রাজনীতির সংঘাতে ভগবানপুরের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—ধর্মীয় মঞ্চ আদৌ কি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পারছে? আপাতত সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশি তদন্ত, আর অপেক্ষায় রয়েছে গোটা গুড়গ্রাম।





