নির্বাচনের আগেই ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভোট সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপড়েন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংঘাত আরও এক ধাপ এগোল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একেবারে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন জল্পনা বাড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে—হঠাৎ করে এত বড় পদক্ষেপ কেন?
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের ঠিক আগেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ভারতের নির্বাচন কমিশন নয়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতরের বিরুদ্ধেও এই মামলায় আপত্তি তোলা হয়েছে। মূল অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার নামে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আইনসিদ্ধ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ তৈরি করছে।
এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮ হাজার ১০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের কোনও নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেওয়া নেই। তা সত্ত্বেও তাঁদের এমন ভূমিকা দেওয়া হচ্ছে, যা আইন লঙ্ঘনের সামিল। আরও প্রশ্ন উঠছে এই কারণে যে, অন্যান্য রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চললেও সেখানে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের নজির নেই।
এই মামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর আগেও একাধিকবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটি তাঁর ষষ্ঠ চিঠি বলে জানা যাচ্ছে। সেই চিঠিতেও মাইক্রো অবজার্ভার, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং রাজ্যের অধিকার নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের দায়ের করা মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই চলছে এবং আদালতের তরফে কিছু নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Budget 2026 : “বাজেট আসলে ভোট জেতার কৌশল”—তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বিজেপির পাল্টা তোপ–“উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানই মূল লক্ষ্য”! বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাজেট ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা!
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে আরও জটিল দিকে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। আগামীকাল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রতিনিধি দল নিয়ে বৈঠকে বসার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হওয়ায় সেই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে। এখন নজর আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে—এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।





