কলকাতার কসবা এলাকায় একটি হোটেলের পাঁচতলার ঘর থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর গোটা শহর জুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। পরিবারে খুশির মুখ, কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সাধারণ জীবনযাপনই ছিল বীরভূমের আদর্শ লোসাল্কারের। কিন্তু গভীর রাতে কী এমন ঘটল যে পরের দিন তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে হল হোটেলের মেঝেতে? তদন্তকারীরাও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না সহজে। হোটেলের কর্মীরা জানিয়েছেন, রাতটি প্রথমে স্বাভাবিকই লাগছিল। কিন্তু তারপর যে ভয়াবহ দৃশ্য অপেক্ষা করছিল, তা অনুমান করা কঠিন।
আদর্শের অস্বাভাবিক মৃত্যু সামনে আসতেই ওঠে একাধিক প্রশ্ন। সঙ্গে থাকা দু’জন—এক তরুণী ও এক যুবক—রাতের অন্ধকারেই হোটেল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কেন তাঁরা রাত কাটানোর আগেই চলে গেলেন? কী কারণে আদর্শকে সেই রাতে একা ফেলে রাখা হল? পুলিশ সূত্রের দাবি, এখান থেকেই তদন্তের মূল সূত্রগুলি পাওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে সামনে এসেছে আরও তথ্য। জানা গিয়েছে, আদর্শের মৃত্যুর আগে ঘরে বচসা হয়েছিল বলে সন্দেহ। তবে সেটাই কি খুনের কারণ, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও পরিকল্পনা—তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কিছুটা হলেও পরিষ্কার দিকনির্দেশ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আদর্শকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তাঁর পেটে মদের গন্ধযুক্ত আঠালো খাবারও পাওয়া গেছে। আরও জানা গেছে, দুটি আলাদা ঘর ভাড়া করেছিলেন তাঁরা। এক ঘরে একা ছিলেন আদর্শ, অন্য ঘরে বাকি দু’জন। কিন্তু রাতের বেলায় সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, আদর্শ নিজেই তাঁদের ঘরে ঢুকছেন। পুলিশের অনুমান, তিনজন একসঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন এবং সেখান থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তর্ক-বিতর্ক কি আচমকা হিংসায় রূপ নেয়? নাকি খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে কিছু মেশানো হয়েছিল? এই সম্ভাবনাগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ধৃত দুই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ধৃত যুবক নদিয়ার বাসিন্দা, আর তরুণী থাকেন কলকাতায়। আদর্শের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কী ছিল, কীভাবে পরিচয়—এগুলি এখনো অস্পষ্ট। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, কোনও ব্যবসায়িক যোগ রয়েছে কি? না কি ব্যক্তিগত অশান্তি থেকেই ঘটেছে এই ভয়াবহ ঘটনা? অভিযুক্তরা এখনো অস্পষ্ট উত্তর দিচ্ছেন বলেই জানা যাচ্ছে। সোমবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে, এবং কলকাতা পুলিশ তাঁদের হেফাজত চাইতে পারে তদন্ত আরও এগিয়ে নিতে।
আরও পড়ুনঃ SIR in Bengal: বাংলাদেশিদের মুখে বিস্ফোরক দাবি, BSF না দালালচক্র, কার হাতে খুলেছিল ভারতের দরজা? SIR–এর পর তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়!
এদিকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পার্ক স্ট্রিট-কাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনার অদ্ভুত মিল রয়েছে। তাই সমস্ত হোটেলগুলির জন্য নতুন একটি সতর্কতা নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এমন নির্দেশিকা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আটকানো সম্ভব হবে। তবে আপাতত একটাই প্রশ্ন—কসবায় সেই গভীর রাতে আদর্শের কী হয়েছিল? সেই উত্তরই খুঁজছে পুলিশ, আর অপেক্ষায় তাঁর পরিবার।






