ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক বরাবরই টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব যত বাড়ছে, ততই নতুন নতুন জল্পনার জন্ম দিচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্য। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এক মন্তব্য, যা মুহূর্তে আলোড়ন তুলেছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিশেষত সিন্ধ প্রদেশকে ঘিরে তাঁর বক্তব্য নতুন করে আলোচনা বাড়িয়েছে।
দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ স্মরণ করেন দেশভাগের ইতিহাস। তিনি বলেন, সাতচল্লিশের বিভাজনে সিন্ধ প্রদেশ পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। ফলে লক্ষ লক্ষ সিন্ধি হিন্দু ভারতে চলে আসেন। কিন্তু তাঁদের মনে একটাই আক্ষেপ ছিল—সিন্ধ যেন কোনও দিনও তাঁদের মন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। রাজনাথ বলেন, বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর প্রজন্মের সিন্ধিরা এই বিচ্ছেদ কোনওদিন মেনে নিতে পারেননি। আডবাণীর লেখা একটি বইয়ের উল্লেখ করে তিনি জানান, ওই প্রজন্মের সিন্ধি হিন্দুদের কাছে সিন্ধ ছিল তাঁদের সাংস্কৃতিক শিকড়, যা রাজনৈতিক সীমানা সত্ত্বেও কখনও আলাদা হয়ে যায়নি।
তিনি বলেন, “আজ সিন্ধ ভারতের ভূখণ্ডে নেই ঠিকই, কিন্তু সভ্যতার দিক থেকে সিন্ধ সবসময়ই ভারতের অংশ। আর ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে সীমান্ত বদলাতে পারে। কে জানে, কাল হয়তো সিন্ধ আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। শুধু ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়, তাঁর কথায় যেন লুকিয়ে আছে কোনও গভীর বার্তা—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনাথ বলেন, “সিন্ধে আমাদের লোকেরা আছেন। যাঁরা সিন্ধু নদীকে পবিত্র মনে করেন, তাঁরা সব সময় ভারতেরই অংশ।” তাঁর এই মন্তব্যে অনেকেরই ধারণা, কেন্দ্র ভবিষ্যতে সীমান্ত নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। গুজরাট ও রাজস্থানের সংলগ্ন এলাকাই পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ। সেই প্রদেশ নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিছক কাকতালীয় নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ Mur*der case :হোটেল ঘরে শ্বাসরোধে মৃ*ত্যু! মৃত আদর্শের সঙ্গী তরুণী-যুবক রাতেই উধাও! মদ্যপান, বচসা থেকে মৃত্যু নাকি পূর্বপরিকল্পিত খু*ন ? তদন্তে পুলিশ!
প্রথম নয়, এর আগেও রাজনাথ সিং স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ এবং কোনও এক সময় তা ফিরে আসবে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর নতুন মন্তব্য রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও পাকিস্তানের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, কিন্তু দিল্লির রাজনৈতিক মহল এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখছে। সিন্ধ সত্যিই ভারতভূমিতে ফিরে আসবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে রাজনাথের এই বক্তব্য যে আগামী দিনে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।





