দিল্লির মেট্রোর আদলে গড়ে উঠেছিল তিলোত্তমার আন্ডারগ্রাউন্ড লাইফ লাইন। প্রতিদিন বহু মানুষ এই মেট্রো রেলের উপর ভরসা করে পৌঁছে যান নিজেদের গন্তব্যে। দক্ষিণ কলকাতা থেকে উত্তর কলকাতা, এমনকি শহরতলির একাধিক প্রান্তকে জুড়ে ফেলেছে এই ব্যবস্থা। তবে সোমবার দুপুরে আচমকাই ঘটল বড়সড় বিপর্যয়। টিকিট কেটে ঢুকে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারলেন না।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দক্ষিণমুখী যাত্রীদের ভরসা ছিল ‘কবি সুভাষ’ মেট্রো স্টেশন। কিন্তু দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ এক অস্বাভাবিক ঘটনা নজরে আসে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে। কবি সুভাষগামী একটি রেক ওই স্টেশনেই দাঁড়িয়ে পড়ে। বহুক্ষণ অপেক্ষার পরেও শুরু হয়নি পরিষেবা। যাত্রীরা প্রাথমিকভাবে কোনও কারণ বুঝতে পারেননি, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝতে দেরি হয়নি পরে।
পরবর্তীতে দেখা যায়, দক্ষিণেশ্বর থেকে যে মেট্রো ট্রেনগুলি কবি সুভাষের দিকে যাচ্ছে, সেগুলি শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে এসেই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। এরপর সেই রেক ফাঁকা অবস্থায় পাঠানো হচ্ছে কবি সুভাষের দিকে। দক্ষিণমুখী যাত্রীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। বেলা গড়াতে থাকলেও পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। এর ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে বহু যাত্রীকে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মুখ খোলে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, প্রবল বৃষ্টির জেরে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের একাধিক পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই বন্ধ রাখা হয়েছে স্টেশনটি। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুনঃ ঘূর্ণাবর্ত আর অক্ষরেখার দাপটে ফের রাজ্য জুড়ে ঝড় বৃষ্টি! একাধিক রাজ্যে সতর্ক বার্তা জারি করলেন আবহাওয়া দফতর!
বর্তমানে দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত আপ এবং ডাউন— উভয় দিকেই পরিষেবা চালু রয়েছে। তবে শহিদ ক্ষুদিরামের পর আর কোনও স্টেশনে থামছে না মেট্রো। কতদিনে এই ফাটল সারিয়ে স্টেশনটি চালু করা যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রীদের সুরক্ষা সবার আগে— এই যুক্তিতেই নেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ‘কবি সুভাষ’ স্টেশন। যাত্রীদের জন্য এটি যে বড়সড় সমস্যা, তা বলাই বাহুল্য।





