Kolkata Airport Alert: সাতবার চিঠি পেয়েও থামেনি নির্মাণ, বড় বিপদের মুখে রাজারহাট-নিউটাউনের বহুতল?

দিনের পর দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পড়ছে একের পর এক বহুতল আবাসন। একদিকে যেমন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে মানুষ, তেমনই অন্যদিকে বাড়ছে বিপদের সম্ভাবনাও। বিশেষ করে, বিমানবন্দরের আশপাশে যখন উঁচু বাড়িগুলির সংখ্যা বাড়ছে, তখন তা আর শুধুমাত্র একটি নগর পরিকল্পনার বিষয় থাকে না—পরিণত হয় প্রাণসংশয়ের আশঙ্কায়। আহমেদাবাদের সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের একাংশ কলকাতাকেও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিমানবন্দরের চারপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে রাজারহাট, নিউটাউন, বাগুইআটি, কৈখালি, বিরাটি, চিনারপার্ক, মধ্যমগ্রাম—এইসব জনবহুল ও বর্ধনশীল অঞ্চল। আর এসব জায়গায় গত কয়েক বছরে একের পর এক উঁচু আবাসন নির্মাণ হয়েছে। অনেকে বলেন, বাড়ির ছাদে দাঁড়ালেই মনে হয় যেন বিমানটি মাথার উপর দিয়েই যাচ্ছে! যা নিঃসন্দেহে নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে, গতকাল আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় একটি মেডিক্যাল হস্টেলের উপর ভেঙে পড়েছিল বিমানটি। তার ফলে বিমানযাত্রী তো বটেই, মৃত্যু হয়েছে হস্টেলের একাধিক ছাত্রেরও। এই ঘটনাই নতুন করে ভাবাচ্ছে কলকাতাকে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, সংলগ্ন পাঁচটি পুরসভার মধ্যে (দমদম, উত্তর দমদম, মধ্যমগ্রাম, নিউ ব্যারাকপুর, ও বিধাননগর) বাড়ি তৈরি করতে গেলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। সাধারণত ১৮.৪ মিটার উচ্চতার বেশি বাড়ি তৈরি করা নিষিদ্ধ। কারণ বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে তা বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু অভিযোগ, বহু প্রোমোটার এই নির্দেশ না মেনেই বহুতল গড়ে তুলছেন। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা আরও জোরাল হচ্ছে কৈখালির একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে। বিধাননগর পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিড়িয়া মোড়ে একটি বহুতল তৈরি হয় কয়েক বছর আগে। জানা গেছে, ২০২১ সালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রোমোটারকে প্রথম চিঠি পাঠায়। তারপর ২০২৩ সালেও আরও একবার। মোট সাতটি চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোনও কর্ণপাত না করায় চলতি বছরের ৩ মার্চ অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়।

আরও পড়ুনঃ Weather update : কলকাতায় দিনে গরম, কিন্তু সন্ধেয় মিলতে পারে স্বস্তি! বর্ষা নিয়ে কী জানাল হাওয়া অফিস?

কলকাতা বিমানবন্দরের দু’টি রানওয়ের মধ্যে যদি প্রাইমারিতে কোনও মেরামতির কাজ চলে, তখন সেকেন্ডারি রানওয়ে ব্যবহার হয়। আর ঠিক তখনই এসব উঁচু আবাসন বিমান নামার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখনই যদি প্রশাসন, নির্মাণ সংস্থা ও নাগরিকরা সচেতন না হন, তাহলে ভবিষ্যতে কলকাতা শহরও আহমেদাবাদের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে—যার দায় হয়তো কারও ঘাড়েই থাকবে না, কিন্তু প্রাণ যাবে নিরীহ মানুষের।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles