বহু মানুষ প্রতিদিন স্বপ্ন দেখে বিদেশে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অনেক সময় ভয়াবহ বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এমনই এক হৃদয়বিদারক পরিণতি হল গুজরাটের এক তরুণীর জীবনে। মেয়েকে পড়াশোনা করাতে নিজের শেষটুকু দিয়ে দিয়েছিলেন বাবা। কঠোর পরিশ্রম করে একদিন সেই মেয়ে চাকরি পেয়ে লন্ডন যাওয়ার সুযোগ পেলেও, স্বপ্নের সেই উড়ানেই থেমে গেল জীবন।
গুজরাটের হিম্মতনগরের বাসিন্দা পায়েল খটিকের জীবনের লড়াই সহজ ছিল না। বাবা রিকশা চালিয়ে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ জুগিয়েছিলেন। আর সেই চেষ্টার ফলেই পায়েল একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পান লন্ডনে। জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়ে নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনার (AI-171) বিমানে উঠেছিলেন পায়েল। কিন্তু টেক-অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল।
আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরেই ভেঙে পড়ে ড্রিমলাইনার। দুর্ঘটনাটি ঘটে বিমানবন্দরের লাগোয়া জনবহুল এলাকায়। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন ছাড়া সকলেই মারা গিয়েছেন। পায়েলও প্রাণ হারিয়েছেন ওই দুর্ঘটনায়। শুধুমাত্র যাত্রীই নন, বিমানের ধাক্কায় ধ্বংস হয়েছে একটি মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্নদের হস্টেল। ফলে মৃত্যু হয়েছে হস্টেলে থাকা ডাক্তারি পড়ুয়াদের, এমনকী এলাকার এক চা বিক্রেতার ছেলেরও। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, অন্য তদন্ত সংস্থাগুলির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরবর্তী সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা কীভাবে রোখা যাবে, সেই ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে বিমানটির ব্ল্যাকবক্স।
আরও পড়ুনঃ Kolkata Airport Alert: সাতবার চিঠি পেয়েও থামেনি নির্মাণ, বড় বিপদের মুখে রাজারহাট-নিউটাউনের বহুতল?
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন বিমানের শেষ ৩৩ সেকেন্ডে কী ঘটেছিল। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের ভুল, না কি অন্য কোনও কারণ, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পায়েল খটিকের মতো অনেকেই যাঁরা এই বিমানে ছিলেন, তাঁদের মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, গোটা দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ এরা ছিল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা, যে সম্ভাবনাকে থামিয়ে দিল আকাশপথের এক মর্মান্তিক বিপর্যয়।





