চাওয়ার পরেও মেলেনি খাবার, অক্সিজেনহীন অবস্থায় মৃত্যু বছর কুড়ির করোনাক্রান্ত তরুণী, কাঠগড়ায় কলকাতা মেডিকেল

কালকের পর ফের আজ। তীব্র শ্বাসকষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়ে কার্যত ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কলকাতা মেডিক্যালে (Kolkata medical College) ভর্তি করোনা আক্রান্ত সুজাতা সাউ (Sujata Shaw)।

পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীরা। ফাঁকা অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাতের স্যালাইনের চ্যানেল খুলে রক্তে ভেসে যাচ্ছে গোটা বিছানা। তীব্র যন্ত্রণায় বাঁচার কাতর আর্তি নিয়ে চিৎকার করে চলেছে বছর ২০-র তরুণী। ওই তরুনীকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করেন ওয়ার্ডে থাকা বাকি রোগীরাও। তবে তাতেও কাজ হয়নি। সময় মতো আসেননি কেউই। তীব্র শ্বাসকষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়ে কার্যত ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন করোনা আক্রান্ত সুজাতা সাউ (Sujata Shaw)।

মহারানী কাশীশ্বরী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন সুজাতা। বাবা হরেন্দ্র নাথ সাউ কাশীপুর রেলবস্তিতে ঠেলাগাড়িতে ছাতু বেচেন। বসবাসও সেখানেই। গত ২৪ অগাস্ট জন্মদিন ছিল সুজাতার। বস্তির ঘরেই কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিন পালন করে সুজাতা। বিপত্তির সূত্রপাত সম্ভবত সেখানেই। ২ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে সুজাতাকে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গ্রিন বিল্ডিং-এ (Green Building)।

করোনা বিল্ডিং হিসেবে পরিচিত গ্রিন বিল্ডিং-এ চিকিৎসাধীন থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায় “৪ সেপ্টেম্বর রাতে ভর্তি হয় মেয়েটি। তখনই সে শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। সকাল হওয়ার পর তাঁর যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট দুই-ই বাড়তে থাকে।” প্রত্যক্ষদর্শীদের আরও অভিযোগ, রাত থেকে মেয়েটি খাবার চাইলেও মৃত্যু পর্যন্ত কোনও খাবারই পায়নি সে। এমনকী, তাঁর গুরুতর অবস্থা দেখে অন্যান্য রোগীরাও অক্সিজেন মাস্ক, স্যালাইন চলা অবস্থাতেই কিশোরীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। বহুবার ডাকাডাকি করলেও চিকিৎসক বা নার্স কেউই আসেননি। বরং তাঁরা জানিয়েছেন, ওই সময় শিফট পরিবর্তন চলছিল কাজেই এখন কিছুই করা সম্ভব নয়। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। শুধুমাত্র অক্সিজেন‌ই নয় ন্যূনতম খাবারটুকু পর্যন্ত দেওয়া হয়নি ওই তরুণীকে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মেয়েটি রাত থেকেই বার বার খেতে চাইছিল। আমার ওঠার ক্ষমতা ছিল না। তাও সকালে ওর বেডে গিয়েছিলাম। আমি নিজের থেকে ২টো বিস্কুট খাওয়াই ওকে। বারবার বলছিল, ‘আন্টি খুব কষ্ট হচ্ছে। একটু সিস্টারদের বলো, আমাকে বাঁচিয়ে দাও।’

একরাশ আফসোস নিয়ে অভিযোগকারীর বক্তব্য “চোখের সামনে স্যার বাঁচান, সিস্টার বাঁচান, বলতে বলতে মেয়েটার মৃত্যু দেখলাম। ভয় লাগছিল। একটু চিকিৎসা পেলে মেয়েটা হয়তও বেঁচে যেত।” তবে মোবাইলে ঘটনার কিছুটা ছবি তোলা হলেও তা নানাভাবে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

RELATED Articles

Leave a Comment