প্রতিবছর বর্ষার শুরু হতেই দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এবং আশপাশের এলাকায় প্লাবনের দুঃস্বপ্ন দেখা দেয়। আদিগঙ্গার জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই অঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাজার এবং অনেক পরিবারের ঘরজুড়ে জল ঢুকে পড়ে। কালীঘাট মন্দির থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন পর্যন্ত বিস্তৃত এই এলাকা বছরের বিশেষ সময়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে। বহু বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমস্যার মোকাবিলা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে থাকেন।
বিশেষ করে তিনটি ওয়ার্ড ৮৩ নম্বর, ৭৩ নম্বর এবং ৮৮ নম্বর সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। ৮৩ নম্বর ওয়ার্ডে কালীঘাট মন্দির অবস্থিত, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, আর ৮৮ নম্বর ওয়ার্ড সাংসদ মালা রায়ের এলাকার অন্তর্গত। প্রতি জোয়ারের সময় এই এলাকাগুলিতে জল ঢুকে পড়লে নিত্যজীবন পুরোপুরি ব্যাহত হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ বহুবার উত্থাপিত হলেও দীর্ঘদিন কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এবার কলকাতা পুরসভা সমস্যার মূলের দিকে নজর দিয়ে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সোমবার মেয়র পরিষদের বৈঠকে এক বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টালিনালা ও গঙ্গার সংযোগস্থল দইঘাটে তৈরি হবে একটি আধুনিক ব্যারাজ এবং নিকাশি পাম্পিং স্টেশন। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১৩৪ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। সব কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন দুর্গাপুজোর পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
প্রস্তাবিত ব্যারাজের উচ্চতা হবে প্রায় ২৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার। বানের সময় ব্যারাজের গেট বন্ধ রাখলে গঙ্গার জল টালিনালায় প্রবেশ করতে পারবে না। ভাটার সময় গেট খোলা থাকবে। এছাড়া নতুন পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে টালিনালার জল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিকাশি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “বর্ষা ও জোয়ারের সময় জলস্তর ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা এলাকায় প্রবেশ করলে ব্যাপক প্লাবন সৃষ্টি করে। তাই ব্যারাজ ও পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ‘দুর্গন্ধ কি নীল সাদা কাপড়ে আটকানো যায়?’ মুখ্যমন্ত্রীর জলপাইগুড়ি সফরের আগে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি শেয়ার নিয়ে তীব্র বিতর্ক!
৮৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রবীর মুখোপাধ্যায় জানান, “এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কালীঘাট ও আশপাশের মানুষ বছরের পর বছর ধরে ভোগা জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে।” এলাকাবাসীও আশাবাদী, শারদোৎসবের আগে প্রকল্পে সিলমোহর পড়ায় তারা খুশি। তারা আশা করছেন দ্রুত কাজ শুরু হবে, যাতে আগামী বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতার সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান আসে। এই উদ্যোগ শুধু কালীঘাট নয়, দক্ষিণ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও মুক্তির বার্তা বয়ে আনবে।





