আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে অনেক সময় সম্পর্কের টানাপোড়েন যেমন দেখা যায়, তেমনই মুহূর্তের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায় তাদের সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে শীতল হওয়া ভারত-মার্কিন সম্পর্ক ঘিরে আবার নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এ যেন মান-অভিমান কাটিয়ে পুরনো বন্ধুত্বের হাত মেলানোর মতোই পরিস্থিতি। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তায় স্পষ্ট, ফের আলোচনার টেবিলে বসার জোর প্রস্তুতি চলছে।
একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি—এই দুই নেতা অনেকবারই আন্তর্জাতিক মহলে পরস্পরকে “বন্ধু” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরেই পরিস্থিতি একেবারেই অন্যরকম ছিল। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন, রুশ তেল কেনা ঘিরে চাপানউতোর—এসব মিলিয়েই সম্পর্ক কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছিল। একসময় তো শোনা গিয়েছিল, ট্রাম্প বারবার ফোন করলেও মোদি নাকি তা রিসিভ করেননি।
কিন্তু সেই অচলাবস্থা কাটাতে এবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এলেন ট্রাম্প। নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লিখলেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় শীঘ্রই সমাধান আসছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করে জানালেন, তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই বার্তার পর পালটা প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক্স-এ লিখলেন, ভারত ও আমেরিকা বহুদিনের বন্ধু এবং অংশীদার। বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য তিনিও সমানভাবে অপেক্ষায় আছেন।
আরও পড়ুনঃ Kolkata: কালীঘাটে প্লাবনের অবসান!পুরসভা তৈরি করছে আধুনিক ব্যারাজ ও পাম্পিং স্টেশন!
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে নানা কারণে বন্ধুত্বে ফাটল ধরলেও, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি এগোতে শুরু করলে সম্পর্ক ফের পুরনো জায়গায় ফিরতে পারে। একসময় রুশ তেল কেনার কারণে শুল্ক চাপিয়ে ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তাই নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সমীকরণ মজবুত করার দিকেই এগোচ্ছে আমেরিকা। বলা হচ্ছে, এই বাণিজ্য চুক্তিই হতে পারে আগামী দিনে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।





