শুক্রবার সকালটা ছিল যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। কলকাতার লর্ডস মোড়ে আচমকা শুরু হয় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। রাস্তার দুই পাশে দোকান সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন ছোট ব্যবসায়ীরা। হঠাৎই এলাকায় ঢুকে পড়ে একাধিক সরকারি গাড়ি ও পুলিশবাহিনী। অনেকেই বুঝতে পারেননি কী ঘটতে চলেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনও রকম পূর্বনোটিস ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এমনকি মৌখিক ভাবেও তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি। এক ব্যবসায়ী বলেন, “সকাল দশটায় এসে বলে, পেছনটা একটু পরিষ্কার করব, দোকান ভাঙব না। তারপর হঠাৎ দেখি সব ভেঙে ফেলল।” এক মহিলা ব্যবসায়ী আরও বলেন, “খিদিরপুরের আগুনও ওরা ইচ্ছা করে লাগিয়েছে। এখানেও পরিকল্পনা করেই ভাঙছে।”
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জমি কলকাতা পুরসভা ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দখলমুক্ত করতে এ দিন দুপুর নাগাদ শুরু হয় অভিযান। পুরসভা আটটি ডাম্পার, একটি জেসিবি ও একটি টেলিয়ান নিয়ে আসে। কলকাতা পুলিশও পুরো অভিযানে সহযোগিতা করে। দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে বেআইনি দোকান চালানো হচ্ছিল।
ব্যবসায়ীদের মতে, প্রায় ১২০টি দোকান পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বহু পরিবার এই দোকানগুলির উপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করত। হঠাৎ এই উচ্ছেদের ফলে রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেল অনেকের। এক ব্যক্তি বলেন, “দুপুর দু’টো নাগাদ এরা এল, তারপর একে একে দোকান গুঁড়িয়ে দিল। আমাদের দোকান ইচ্ছা করে টার্গেট করা হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ Viral video : জন্মদিনের পার্টিতে প্রেমিকের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে, আচমকা হানা স্বামীর! স্বামীকে দেখেই ছাদ টপকে পালালেন বধূ, ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য!
ঘটনার পর থেকে লর্ডস মোড় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ব্যবসায়ীরা। অনেকের চোখে জল, কেউ ভাঙা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হতভম্ব। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত বিবৃতি আসেনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “যদি সরকারি জমি হয়ও, তাহলে এতগুলো দোকান সরানোর আগে কি একবারও জানানো উচিত ছিল না?”





