কুণাল ঘোষ বনাম ফিরদৌস শামিম, আদালতের দেওয়াল পেরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়াল তুমুল বিতর্ক। একের পর এক বাক্যবাণে জর্জরিত রাজ্য রাজনীতি, এবার কেন্দ্রবিন্দু কলকাতা হাইকোর্টের এজলাস! সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের পারস্পরিক তির্যক মন্তব্য। যা থেমে থাকেনি আদালত কক্ষে, বরং সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে তার আঁচ। দু’পক্ষই নিজের অবস্থানে অনড়, আর তাতেই এক নতুন বিতর্ক উসকে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
২০১৬ সালের প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ফিরদৌস শামিম। অভিযোগ, আদালতের ভিতরে উচ্চস্বরে সওয়াল করছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, “শামিম না কী যেন নাম, আজ কোর্টরুমকে টিভি বা পোর্টাল ভেবে চেঁচাচ্ছিল। জজসাহেব বিস্তর ধমকেছেন।” এমনকি তিনি আরও লেখেন, “মাননীয় বিচারক যেরকম বকলেন, আমি কোনো আইনজীবীকে এমন ঝাড় খেতে দেখিনি।”
ঘটনার এখানেই ইতি নয়। কুণাল ঘোষ ওই শুনানির একটি লাইভ ভিডিওর স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম নিজেই। তাঁর বক্তব্য, আদালতের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া নেওয়া অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, “কেউ কীভাবে আদালতের ফুটেজ এভাবে পোস্ট করতে পারে? আদালত কি অনুমতি দিয়েছে?”
আদালতে যেই মামলার শুনানি চলছিল, তা ছিল ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত। যেখানে এসএমএসের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ত্রুটিহীন তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি বোর্ড। সেই নিয়ে চলছিল শুনানি। শামিমের দাবি, তিনি শুধুমাত্র আদালতের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, এবং ভয়েস টোন অনুযায়ীই কথা বলেছেন।
আরও পড়ুনঃ India-Canada : ২০ মাস পরে বড় পদক্ষেপ, ভারত-কানাডা ফের হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত— বদল আনল নতুন নেতৃত্ব!
উল্লেখ্য, এর আগেও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর অবমাননা এবং আইনজীবীদের হেনস্তার অভিযোগে কুণাল-সহ আরও ৭ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সেই মামলাকে ঘিরেই আগের থেকে উত্তেজনা ছিল দুই পক্ষের মধ্যে। এবার সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হল সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে।





