India-Canada : ২০ মাস পরে বড় পদক্ষেপ, ভারত-কানাডা ফের হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত— বদল আনল নতুন নেতৃত্ব!

এক সময় বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, সাম্প্রতিক অতীতে ভারত ও কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্ক যে পথে এগোচ্ছিল, তা যথেষ্ট চিন্তার ছিল আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও। খলিস্তান ইস্যুকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা দ্বন্দ্ব দুই দেশের সম্পর্কে গভীর ফাটল তৈরি করেছিল। এমনকি, একাধিক কূটনীতিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে দুই দেশ কার্যত মুখ ফিরিয়ে নেয় একে অপরের দিক থেকে। তবে সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্বও।

মঙ্গলবার জি-৭ সম্মেলনের মাঝে একান্তে বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দীর্ঘ ২০ মাস বাদে এই প্রথমবার এমন উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মিলিত হলেন দুই দেশের নেতৃত্ব। সূত্র অনুযায়ী, দুই রাষ্ট্রনেতাই সম্পর্কের নতুন সূচনা চান। এবং সেইমতো, একে অপরের রাজধানীতে ফের হাইকমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে— দু’দেশই অতীতের মতানৈক্য মুছে ভবিষ্যতের দিকে এগোতে চাইছে।

২০২৩ সালে কানাডার সারে শহরের একটি গুরুদ্বারে খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের খুন ঘিরেই শুরু হয়েছিল বিতর্কের ঝড়। কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরাসরি ভারত সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। যার ফলশ্রুতিতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। একে অপরের কূটনীতিকদের দেশছাড়া করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয় দিল্লি ও অটোয়া। ভারত তখন কানাডাকে ৪১ জন কূটনীতিক সরিয়ে নিতে বলে, নির্ধারণ করে সময়সীমাও।

ভারতের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৎকালীন কানাডা সরকার। ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে তারা। যদিও ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়— জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তা রক্ষা করাই সর্বাগ্রে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কানাডার কূটনীতিক সংখ্যা ৬২ থেকে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ২১ জনে। যদিও, ট্রুডো সরকার তাদের নিজের ভূমিকাকে কখনও ভুল বলে মেনে নেয়নি।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : পাকিস্তান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা! ট্রাম্পকে মোদির সাফ কথা— ভারত তৃতীয় পক্ষ মানে না!

তবে সব কিছুর পর, মার্ক কার্নির নেতৃত্বে কানাডার সুর অনেকটাই নরম হয়েছে। ভারতও সেই বার্তাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তাই এবার দুই দেশই সিদ্ধান্ত নিয়েছে— কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ হবে দ্রুত, এবং পরস্পরের দেশে ফের হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হবে। ভারত-কানাডা সম্পর্কের ইতিহাসে এই ঘটনা একটি বড় মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। এখন দেখার, নতুন অধ্যায়ে এই সম্পর্ক কতটা গভীরতা পায়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles