সকালের খবরেই শোরগোল গোটা রাজ্যে। এক তরুণী মেডিক্যাল পড়ুয়ার অকাল মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। পরিবার, বন্ধু থেকে শুরু করে সহপাঠীরা কেউই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর চলে যাওয়া। স্বপ্নপূরণের পথে হেঁটে চলা মেয়েটি হঠাৎ এমনভাবে নিথর হয়ে গেলেন কেন, সেই প্রশ্নেই উত্তাল চারদিক।
কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন অনিন্দিতা সোরেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বাসিন্দা এই তরুণী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। কিন্তু সপ্তাহের শুরুতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর আচমকা খবর মেলে, তিনি মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন। কীভাবে তিনি সেখানে পৌঁছলেন, তা নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিন্দিতার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র উজ্জ্বল সোরেনের সঙ্গে। পুরুলিয়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল এবং অনিন্দিতা প্রথমে বন্ধুত্বে জড়ালেও দ্রুতই প্রেমের সম্পর্কে বাঁধা পড়েন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। পারিবারিক সূত্রে শোনা যাচ্ছে, একাধিক কারণে ঝামেলা বাড়ছিল দুই তরুণ-তরুণীর মধ্যে।
সেই সময়েই অনিন্দিতার শরীর খারাপ হয়। শুক্রবার রাতে তাঁর অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় প্রথমে তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল থেকে আর জি কর মেডিক্যালে রেফার করা হয়। কিন্তু মাঝপথেই অসুস্থতা বেড়ে গেলে ফের তাঁকে মালদহে ফিরিয়ে আনা হয়। শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার ভোরেই মৃত্যু হয় এই তরুণীর। ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে অনিন্দিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন প্রেমিককে। অশান্তির জেরে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে খুন করা হয়েছে অনিন্দিতাকে।
আরও পড়ুনঃ Muridke Laskar HQ Update: বন্যা ত্রাণের আড়ালে তহবিল সংগ্রহ, ২০২৬-এর মধ্যেই লস্করের নতুন ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা!
পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তেই উঠে আসে একাধিক অসঙ্গতি। শনিবার রাতেই মালদহ থেকে উজ্জ্বল সোরেনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে অনিন্দিতার ঝামেলা, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্তঃসত্ত্বার তত্ত্ব সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় নতুন কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সবাই।






