রবিবার সারা দিনই কলকাতার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ভিন রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ছিল। বিশেষ করে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের এসএসসি পরীক্ষায় বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি থেকে অনেক পরীক্ষার্থী এসেছেন। ভিড়ের মধ্যে দীনেশকুমার পালও ছিলেন, যিনি এলাহাবাদ থেকে এসেছেন। তিনি জানালেন, চাকরির তীব্র অভাব এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে এমন ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দীনেশের কথায়, “দেশে সবাই ধর্ম নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু বেকারত্ব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আমাদের মতো শিক্ষিত লোকজন বেকার, অথচ বেআইনি পথে চাকরি হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়াই একমাত্র আশ্রয়।” তিনি আরও বলেন, ভিন রাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীরা আসায় বোঝা যায় যে, শুধুমাত্র বাংলায় নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষিত বেকারদের চাকরির তীব্র অভাব।
দীনেশের দাবি, “যে রাজ্যেই যাই, ছবি একই। তবে উত্তরপ্রদেশের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে সেখানে কোনও নিয়োগ হয়নি। এত বড় রাজ্যে ২-৩ হাজার শূন্য পদ কিভাবে পূরণ হয়?” তিনি জানান, পিএইচডি ও নেট কোয়ালিফাই করা শিক্ষিতরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ঘুরে চাকরি খুঁজছে। এই অভাবের ফলে শিক্ষিত যুবকেরা চাকরির জন্য হাহাকার করছে।
নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর ১০ শতাংশই ভিন রাজ্যের। কলকাতার জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়, এই পরীক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আসেননি, তারা অনেকেই আশেপাশের শহরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। দীনেশের মতো অনেকেই জানান, প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষার খবর পেলে দূরের রাজ্য থেকেও ছুটে আসতে হয়, কারণ বিকল্প নেই।
আরও পড়ুনঃ RG KAR MEDICAL college: আর জি করের ছাত্রীর রহস্য*মৃত্যুতে মালদহে গ্রেপ্তার প্রেমিক, অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে উঠছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!
শেষ পর্যন্ত দীনেশ স্পষ্টভাবে বলেন, “গোটা দেশে চাকরির সমস্যা এক রকম। শিক্ষিতরা বেকার, স্বল্প বেতন নিয়োগ হচ্ছে, আর সরকারি পর্যায়ে নতুন নিয়োগ নেই। তাই আমরা পিএইচডি, নেটসহ সব যোগ্যতা নিয়ে ঘুরছি, শুধুমাত্র চাকরির আশায়।” এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, দেশের শিক্ষিত যুব সমাজের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।





