ভারতীয় বায়ুসেনার অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল পাকিস্তানের মুরিদক এলাকায় অবস্থিত লস্কর-ই-তৈয়বার সদর দফতর। দীর্ঘদিন সেই ভাঙাচোরা কাঠামো পড়ে থাকলেও এখন নতুনভাবে কাজ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে সেখানকার ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফের তৈরি হচ্ছে নতুন ঘাঁটি।
গত ৭ মে পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারতীয় বায়ুসেনা মাত্র ২৩ মিনিটের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেয় মুরিদকের লস্কর সদর দফতর। সেদিনের আঘাতে ভেঙে পড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ডারদের থাকার ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ভবন। দুটি হলুদ রঙের বাড়ি এবং একটি লাল দোতলা বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজ চলেছে। অবশেষে সম্প্রতি সেই কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইন্টেলিজেন্স সূত্রে খবর, এবার সেই জায়গাতেই নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে লস্কর-ই-তৈয়বা। ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ ওই দিন পাকিস্তান সরকার পালিত করে তথাকথিত ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’। এর আগে আগস্ট থেকেই ভাঙা অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, আর বর্তমানে সেখানেই নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তোড়জোড় চলছে।
তবে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন নিয়ে, পাকিস্তান সরকার প্রায় ৪ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে, কিন্তু লস্করের হিসাবে প্রয়োজন অন্তত ১৫ কোটি রুপি। সেই ঘাটতি মেটাতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সংগঠন বন্যা ত্রাণের নামে অনুদান তুলছে। ‘খিদমত-ই-খালাক’ নামের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন ফান্ডিংয়ের প্রচার চালানো হচ্ছে। মূলত সেই অর্থ মুরিদক ও অপারেশন ‘সিঁদুরে’তে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ঘাঁটি পুনর্নির্মাণে খরচ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ Mini Firoz: ফেসবুকে রিল পোস্ট করেও নিরাপদ মিনি ফিরোজ, ‘বিধায়কের হাত’ আছে বলেই ধরছে না পুলিশ-তোপ বিজেপির!
এই ধরনের তহবিল সংগ্রহ নতুন কিছু নয়। ২০০৫ সালে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ভূমিকম্পের পর কোটি কোটি টাকা অনুদান এসেছিল, যার বেশিরভাগটাই পরে সন্ত্রাসী কাঠামো গড়তে ব্যবহার হয়। এমনকি কোটলিতে নির্মিত মারকাজ আব্বাসও সেই অর্থেই তৈরি হয়েছিল, যদিও ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতীয় হামলায় সেটিও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে আশঙ্কা বাড়ছে যে ইতিহাস যেন আবার না ফেরে, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে ফের জঙ্গি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী না হয়।





