‘কোনও ভিআইপি-র ঠাকুর দেখার জন্য যেন রাস্তা বন্ধ না হয়’, পুজোর সময় শহরে যানজট নিয়ে কড়া বার্তা মমতার

ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। মহালয়ার দিন থেকেই শুরু গিয়েছে প্যান্ডেল হপিং। পুজোর জনজোয়ারের জেরে যানজট নতুন কোনও ঘটনা নয়। এবার এই যানজট নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও ভিআইপি বা নেতানেত্রীর জন্য যাতে রাস্তা না বন্ধ করা হয়, সেই নিয়ে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিলেন তিনি।  

কী বললেন মমতা?

গতকাল, সোমবারও ভারচুয়ালি অনেক পুজো উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বডিগার্ড লাইনের পুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলও। এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে কলকাতার নগরপাল আশ্বস্ত করে বলেন যে পুজোর সময় পুলিশের তরফে যান চলাচল থেকে শুরু করে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আরও সুষ্ঠুভাবে করা হবে।

এই সময় মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “কোনও কোনও নেতা-নেত্রীরা এই সময় পাইলট লাগিয়ে, যদি পুজো দেখতে যায়, তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু এর জন্য যেন রাস্তা বন্ধ না করা হয়। যান চলাচল যেন স্বাভাবিক থাকে”।

মমতার কথায়, “ভিআইপিরা আসুন, ঠাকুর দেখুন। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেভাবে যান, সেভাবে যান। এটা মাথায় রাখতে হবে। কোনওরকম বিশেষ কেয়ার যেন না হয়। কেউ যেন রাস্তা বন্ধ না করে দেন। আমি যদি দেখি কোথাও রাস্তা বন্ধ হচ্ছে, আমি কিন্তু অ্যাকশন নেব”।

এই কথা বলার সময়ই গঙ্গাসাগরের মেলার প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা। বলেন, “আমি পুজোর সময় কাউকে বিরক্ত করি না। গঙ্গাসাগরেও আমি ওই সময়ে কোনও ভিআইপিকে যেতে দিই না”।

শুধু তাই-ই নয়, এদিন আলিপুর বডিগার্ড লাইনের পুজোর উদ্বোধনের সময় পুলিশকর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “তোমাদের মাথায় অনেক দায়িত্ব। অনেক বিদেশি নাগরিক এবার আসছেন। অনেকে ঘুরতেও শুরু করে দিয়েছেন। তাঁদের বাসে ‘ফরেনার্স টুরিস্ট বাস’ লেখার ব্যবস্থা করে, সেটাকে গ্রিন চ্যানেল করে দিও”।

প্রসঙ্গত, এর আগে যানজট নিয়ে শ্রীভূমির পুজোর উদ্যোক্তা তথা মন্ত্রী সুজিত বসুকে সতর্ক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীভূমিরপুজোর জন্য যাতে এয়ারপোর্ট যাওয়ার রাস্তায় যানজট না হয়, সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেছিলেন কড়া হাতে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে তিনি নিজেই কড়া ব্যবস্থা নেবেন। 

RELATED Articles