Thakubari : ঠাকুরবাড়িতে ফাটল আরও গভীর! মমতাবালা ঠাকুরের আমরণ অনশন ও মতুয়া মহাসঙ্ঘের নতুন কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব!

ঠাকুরবাড়িতে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ছে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ফাটল নতুন রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষ এই বিভাজন দেখেও চুপ থাকতে পারছেন না। সম্প্রতি, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর নিজের বাড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন। অনশনকারীরা দাবি তুলছেন, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়া হোক এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আসা ছিন্নমূল মানুষদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হোক।

মমতাবালা ঠাকুর নিজেই এই অনশনের ডাক দিয়েছেন। যদিও খবর সম্প্রচারিত হওয়ার সময় তিনি অনশন মঞ্চে ছিলেন না এবং বিশেষ কাজে বাইরে ছিলেন। অনশন মঞ্চে উপস্থিত মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীরা জানিয়েছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে না, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।” তাদের বক্তব্য, SIR ইস্যুর কারণে মতুয়াদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে আন্দোলন আরও দৃঢ় আকার নিয়েছে।

অন্যদিকে, মতুয়া মহাসঙ্ঘের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের খবরও এসেছে। গাইঘাটা বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর তাঁর সমান্তরাল কমিটি তৈরি করেছেন। একই নামের নতুন কমিটি গঠন করায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই নতুন কমিটিতে উপদেষ্টা মণ্ডলীর তালিকায় আছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতো নামও। আগের মতো আলাদা দুটি কমিটি ছিল—একটি কেন্দ্রের বিজেপি মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে মান্য করত, অন্যটি মমতাবালা ঠাকুরকে।

শান্তনু ঠাকুর ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন, “যারা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাদের নাম যেন কাটানো না হয়, সে বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আবেদন করব।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে মমতাবালা ঠাকুর দাবি করছেন, “শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের ভুল তথ্য দিচ্ছেন। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে এমন কোনও আইন নেই।”

আরও পড়ুনঃ West Bengal politics: এসআইআর প্রকাশ্যে তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্ট কম! বিজেপি ও সিপিএমকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে শাসকদল! রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক!

এই বিতর্কে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরাসরি মন্তব্য করেছেন, যে CAA ক্যাম্পে গেলে অসমের মতো ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভাজন চরমে পৌঁছেছে। ঠাকুরবাড়ির এই নতুন ফাটল ও আমরণ অনশন একদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নজরকাড়া এবং শেষ পর্যন্ত কেমন সমাধান হবে, তা নিয়ে সকলের কৌতূহল রয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles