দুপুর হোক বা সন্ধ্যে—নিয়ম করে দমদম থেকে টালিগঞ্জের দিকে ছুটছেন যাত্রীরা। অফিস টাইমে একরাশ ভিড় সামলেও ট্রেন ধরার তাগিদে ছুটে চলার এই গল্প নতুন নয় কলকাতাবাসীর কাছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ থেকে উত্তর—ব্লু লাইন ছাড়া যেন অকল্পনীয় মহানগরের গতিময় জীবন। তবে, সেই অভ্যেসে এবার সম্ভবত ছেদ পড়তে চলেছে।
প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী নির্ভর করেন এই ব্লু লাইনের টানেলের উপর। টালিগঞ্জ থেকে দমদমের এই সুড়ঙ্গ পথ তৈরি হয়েছে সেই কবে, ১৯৮৪ সালে। আজ ৪০ বছর পর, সেই সুপ্রাচীন মেট্রো টানেল নিয়ে চিন্তিত কর্তৃপক্ষ। অতীতে বেশ কয়েকটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে কলকাতা মেট্রো—টানেলের গায়ে চিড়, জল চুইয়ে পড়া কিংবা ট্র্যাকের ক্ষয়। এসব সামাল দিতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে বটে, কিন্তু কোনও বড়সড় সংস্কার এখনও পর্যন্ত হয়নি।
অবশেষে সেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। টালিগঞ্জ থেকে দমদমের ১৬.৪৫ কিমি দীর্ঘ টানেলে শুরু হতে চলেছে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের কাজ। এই প্রকল্পে সময় লাগবে প্রায় তিন থেকে চার বছর। তবে এত দীর্ঘ সময়ে কীভাবে যাত্রী পরিষেবা বজায় রাখা সম্ভব হবে? কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার উদয় কুমার রেড্ডি জানিয়েছেন, টানেল সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে RITES নামক পরামর্শদাতা সংস্থাকে। সমীক্ষার কাজ প্রায় শেষের পথে। তবে পরিষেবা বন্ধের নির্দিষ্ট দিন এখনো জানানো হয়নি।
রেল আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, কাজ চলাকালীন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও আংশিকভাবে বন্ধ থাকতে পারে বিভিন্ন সময়ে। এমনকি কয়েকটি দিন সম্পূর্ণ পরিষেবাও বন্ধ রাখা হতে পারে। সেই সময়ে যাত্রীদের অন্য লাইনের উপর নির্ভর করতে হতে পারে অথবা বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। পাশাপাশি, আপগ্রেড করা হবে উত্তর-দক্ষিণ লাইনের সিগন্যালিং সিস্টেম। লিফট, এসকেলেটর সহ স্টেশনগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নও হবে এই প্রকল্পে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : বঙ্গোপসাগরের জলীয়বাষ্পে বদলাচ্ছে আবহাওয়া, ফের কালবৈশাখীর সম্ভাবনা! জানুন কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস
তবে, এখনও পর্যন্ত এই সংস্কার কাজ কবে থেকে শুরু হবে এবং কবে পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, সেই নির্দিষ্ট দিন জানানো হয়নি মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে। সূত্রের খবর, রিপোর্ট পাওয়ার পরেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ, এখনই আতঙ্কের কিছু নেই, তবে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকতেই হবে যাত্রীদের। ৪০ বছরের পুরনো সুড়ঙ্গটিকে নতুন রূপে গড়ে তুলতেই এই প্রচেষ্টা। মেট্রো রেলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাত্রীদের অসুবিধা যতটা সম্ভব কমানো হবে এবং আগে থেকেই সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। তাই আপাতত ধৈর্য ধরাই শ্রেয়।





