Bhangar : ফের ওয়াকফ ঘিরে আন্দোলন, “শুধু কি তৃণমূলই মিছিল করবে?” পুলিশের বাধায় ক্ষুব্ধ আইএসএফ, ব্যারিকেড ভেঙে ধুন্ধুমার, স্তব্ধ শহরতলি

দিন যত এগোচ্ছে, রাজ্য রাজনীতি যেন ততটাই বিস্ফোরক হয়ে উঠছে। একের পর এক ইস্যুতে রাস্তায় নামছে বিভিন্ন দল, আর সেই জমায়েত ঘিরেই তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, কারণ মাঝেমধ্যেই পথ আটকে পড়ছে যানবাহন, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রুটিন চলাফেরা। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন চাকুরিজীবী ও রোগীরা। বিশেষত স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার মরশুমে এইসব অশান্তি যেন জীবনের ছন্দ পুরোপুরি কেড়ে নিচ্ছে।

একের পর এক রোড অবরোধ, পুলিশি ব্যারিকেড, মিছিল-মিটিং… রাজনৈতিক দলের ময়দানে নামা যেন এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ ভাবছেন, আন্দোলন যেমন রাজনৈতিক অধিকারের অংশ, তেমনই বাকিদের স্বাভাবিক জীবনধারাও রক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু যেভাবে হঠাৎ করে পথ আটকে যাচ্ছে, যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে— তাতে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই সোমবার ফের অশান্তি ছড়াল ভাঙড়ে।

সোমবার দুপুরে কলকাতার রামলীলা ময়দানে ওয়াকফ আইন বিরোধী সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন আইএসএফ (ISF) কর্মীরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসে করে কলকাতার দিকে রওনা দেন তারা। কিন্তু বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ের বৈরামপুরে পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয় তাঁদের বাস। অভিযোগ, কোনোরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পুলিশ জমায়েত রুখতে গাড়িগুলি থামিয়ে দেয়। সেই সময় ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন আইএসএফ কর্মীরা, তখনই শুরু হয় ধস্তাধস্তি।

বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র রূপ নেয়। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং এক আইএসএফ কর্মীর মাথা ফেটে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোতে চাইলে আবারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। রাস্তার ওপরেই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আইএসএফ সমর্থকরা। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে, অসুবিধায় পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আরও পড়ুনঃ dumdum metro : বন্ধ হতে চলেছে দমদম-টালিগঞ্জ মেট্রো! টানেলের ভেতরে বড়সড় বিপদ? কবে থেকে থমকে যাবে পরিষেবা?

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। তাঁর দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন এই নতুন ওয়াকফ আইন রাজ্যে কার্যকর হবে না, তাহলে পুলিশের এই বাধা কেন?” তিনি আরও বলেন, তৃণমূল ভয় পেয়ে পুলিশকে ব্যবহার করছে আইএসএফ-কে দমন করার জন্য। পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা জানান, “আইএসএফের কোনও জনভিত্তি নেই। ওরা অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পুলিশ যা প্রয়োজন, তাই করেছে।” তবে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন, রাজ্য এই আইন সমর্থন করে না এবং অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে স্পর্শকাতর এলাকায়। এখন দেখার, এই উত্তেজনার শেষ কোথায় দাঁড়ায়।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles