শহরের বড়সড় অপরাধের ঘটনা প্রতিনিয়ত উঠে আসে, তার মাঝেই ফের সংবাদ শিরোনামে উঠে এল দমদমের এক বস্তি এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা। রবিবার সকালে যখন রাস্তা ধরে সাধারণ মানুষ নিজের কাজে ব্যস্ত, তখনই শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র ১৪ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীকে বস্তিতে নিয়ে গিয়ে একাধিক ব্যক্তির দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়। ঘটনাটি এতটাই স্পর্শকাতর যে এলাকার মানুষ আতঙ্কে, ক্ষোভ আর প্রশ্নে একসঙ্গে ফেটে পড়েছেন।
নাবালিকা, যিনি স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, শনিবার সন্ধ্যায় টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে প্রাক্তন পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা হয়। দুজন কিছুক্ষণ পার্কে গল্প করলেও, সেই ছেলের আচরণে অস্বস্তি অনুভব করেন কিশোরী। কীভাবে, কখন সেই ছেলেটি জোর করে তাকে টোটোয় ওঠায় এবং নিয়ে যায় স্থানীয় এক কলোনির বস্তির ভিতর। বস্তির বাড়িতে ঢুকিয়ে তাকে আটকে রাখা হয় বলে দাবি পরিবারের। একবার আটকে পড়ার পর ঘটনাস্থলে হাজির হয় আরও দুই যুবক। এরপরই ঘটে অকল্পনীয় ঘটনা—কিশোরীকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর নাবালিকা শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে। বাড়ি ফিরে কাঁদতে কাঁদতে বাবা-মাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। পরিবারের সদস্যরা মেয়েটির মুখ থেকে সেই বিভীষিকাময় বর্ণনা শুনেই শিউরে ওঠেন। সময় নষ্ট না করে দ্রুত দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযোগ পেয়েই স্থানীয় পুলিশ সদা তৎপর হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তিন অভিযুক্তকে রাতেই গ্রেফতার করে। আজ তারা আদালতে পেশ হবে এবং পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে খবর।
এই ঘটনার অভিঘাত দ্বিগুণ, কারণ সদ্য কিছুদিন আগেই শহরের নামী হাসপাতালের ভিতর এক নাবালিকাকে নিগ্রহের ঘটনা সামনে এসেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। এদিকে, অনেকে দেখছেন এই ঘটনার সঙ্গে সম্প্রতি বীরভূমে ঘটে যাওয়া শিশু নির্যাতনের ঘটনার মিল। সেখানেও এক নাবালিকাকে টিউশন সংকেতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল, এবং অভিযুক্তেরাও বেশ তরুণ। সমাজকর্মী ও শিশু অধিকার রক্ষাকারীরা এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সূত্রের খবর, দমদমের এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের তরফেও জানানো হয়েছে, নির্যাতিতার চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহরে আবারও নাবালিকা নির্যাতনের খবর সামনে আসায় টলিপাড়া থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই প্রশ্ন তুলছেন নিরাপত্তা কোথায়? প্রশাসন কড়া হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানানো হলেও, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহ অনেকেই পড়েছেন আতঙ্কে।
আরও পড়ুনঃ Krishnanagar Chaos: কৃষ্ণনগরে নিরঞ্জনে লাঠিচার্জ! শুভেন্দুর পোস্টে তীব্র বিতর্ক, পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্নের ঝড়!
পরপর শিশু নির্যাতন আর অপরাধের অভিনব পদ্ধতি নিয়ে উদ্বিগ্ন কলকাতা। একদিকে সচেতনতা বাড়াতে নানা পুরস্কার হাসপাতাল, স্কুল, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুত পুলিশ পদক্ষেপে কিছুটা আশ্বাস পাচ্ছে এলাকাবাসী। তবে, সমাজে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য শুধু প্রশাসনেরই নয়, অভিভাবকত্ব – সচেতনতারও দরকার, সেটাই মনে করিয়ে দিল এই মর্মান্তিক ঘটনা।





