লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে রাজ্যসভা নির্বাচন। আগামী এপ্রিল মাসে একসঙ্গে দেশের ৩৭টি রাজ্যসভার আসনের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে। বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা সরল মনে হচ্ছে, ভেতরে ভেতরে সমীকরণ ততটাই জটিল। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরে কে হবেন একমাত্র জয়ী প্রার্থী, তা নিয়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যে।
এই পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় কার্যত নিশ্চিত। লড়াই হচ্ছে পঞ্চম আসনটি নিয়ে। সেই একমাত্র আসনেই কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। দিল্লির একাংশের নেতৃত্বের ইচ্ছা, এবার রাজ্য থেকে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যসভায় পাঠানো হোক। বঙ্গের সংগঠনের একাংশের নাম বাদ দিয়েই এই প্রস্তাব সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বেড়েছে রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে।
সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবছরই। তাঁর আসনটিতেই বিরোধী বিধায়কদের সমর্থনে মিঠুনকে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বিজেপির দিল্লি লবি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সংসদীয় রাজনীতিতে সিপিএম কার্যত শূন্য হয়ে যাবে—যা নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। বিজেপির যুক্তি, সাংসদ হলে রাজ্যজুড়ে প্রচারে মিঠুনকে আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা যাবে, আবার ভবিষ্যতের বড় রাজনৈতিক সমীকরণেও তিনি ‘সেফ অপশন’।
বিজেপির আরেকটি অংশ মনে করছে, রাজ্যে সরকার গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হলে দলকে এক বিকল্প মুখের প্রয়োজন হতে পারে। সেই জায়গায় মিঠুন চক্রবর্তীকে সামনে আনার ভাবনাও ঘুরছে। বিধানসভা নির্বাচনে সরাসরি লড়াইয়ের ঝুঁকি এড়িয়ে রাজ্যসভাকে নিরাপদ পথ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে শেষ মুহূর্তে বিধানসভায় নামানো যেতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী তরুণীকে লাগাতার যৌন*নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেফতার অভিযুক্ত!
তবে ছবিটা এতটা একরঙা নয়। বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের আরেক অংশ প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে আবার সংসদে দেখতে চাইছে। সাংসদ থাকাকালীন সংগঠনিক কাজ ও বিভিন্ন রাজ্যে প্রচারে তাঁর ভূমিকা এখনও দিল্লির একাংশের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। পাশাপাশি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় ও বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর নামও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, একমাত্র আসনকে ঘিরে বিজেপির অন্দরের এই টানাপোড়েনই এখন বঙ্গ রাজনীতির নতুন চর্চার বিষয়।





