হুগলি জেলার এক গ্রামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল রাজনীতির সঙ্গে নৈতিকতার সম্পর্ক নিয়ে। গ্রামের প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন, পরিচিত মুখ, বিশ্বাস আর ভরসার আড়ালেই যে কখনও কখনও ভয়ঙ্কর অভিযোগ লুকিয়ে থাকে, তা এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটি হুগলির চণ্ডীতলা এলাকার। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার যৌন নির্যাতন করেছেন শাসক দলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। পরিবারের দাবি, বিষয়টি তারা প্রথমে বুঝতে পারেননি। কয়েক মাস ধরে চলা এই নির্যাতনের কথা সামনে আসে মাত্র এক সপ্তাহ আগে। এরপরেই গ্রামে শুরু হয় আলোচনা, চাপা ক্ষোভ প্রকাশ পায় প্রকাশ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বসে সালিশিসভা। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ।
সালিশিসভার মধ্যেই অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর চণ্ডীতলা থানায় নির্যাতিতার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে। নির্যাতিতার দাদা জানান, তাঁর বোনের উপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চলছিল। পরিবারের তরফে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে পঞ্চায়েত স্তরেও। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ জন সদস্য এবং তিন জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য একযোগে অভিযুক্তের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে প্রধানের কাছে ডেপুটেশন দেন। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জানান, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তাঁর কথায়, ভুল হলে তার কোনও ক্ষমা নেই, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই মানা হবে।
আরও পড়ুনঃ I-PAC case: পিছিয়ে গেল I-PAC মামলার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ! কি কারণে ফের স্থগিত হলো শুনানি?
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। সিপিআইএম এই ইস্যুতে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেছে। বাম নেতা মনোজ চলের বক্তব্য, যাঁদের গ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব, তাঁদেরই চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত যদি দোষী হন, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাটি এখন শুধুই একটি অভিযোগ নয়, বরং প্রশাসন, রাজনীতি এবং সমাজের কাছে এক বড় পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে পরিস্থিতিকে।





