নদীয়ার মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নাগরিকত্ব, ভোটার তালিকা এবং সিএএ নিয়ে মতুয়া সমাজের মধ্যে যে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই তাকিয়ে ছিলেন অনেকেই। আবহাওয়ার কারণে সরাসরি সভাস্থলে পৌঁছতে না পারলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অডিয়ো বার্তা সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে উঠে আসে। কিন্তু বক্তব্য শেষ হতেই শুরু হয় নতুন করে আলোচনা—আশ্বাস কি আদৌ মিলল, নাকি প্রশ্নই থেকে গেল?
প্রধানমন্ত্রী অডিয়ো বার্তা শুরু করেন ‘জয় নিতাই’ উচ্চারণ করে। প্রথমেই উঠে আসে মতুয়া সমাজের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর এবং বড়মার নাম উল্লেখ করে তিনি মতুয়া আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবদানের কথা বলেন। হরিনাম সংকীর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘হরিনাম দিয়ে জগৎ মাতালে, আমার একলা নিতাই।’ বক্তব্যের এই অংশে ধর্মীয় আবেগের ছোঁয়া থাকলেও, যেসব বাস্তব সমস্যার দিকে তাকিয়ে ছিলেন বহু মানুষ, সেগুলি নিয়ে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এই বক্তব্যের ঠিক আগেই মঞ্চে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যে কথা বলেন, সেটাই বাড়িয়ে দেয় প্রত্যাশার মাত্রা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনও হিন্দু উদ্বাস্তু ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবেন না। ওপার থেকে আসা মানুষদের পাশে বিজেপি আছে—এই বার্তাও দেন তিনি। একই সঙ্গে আশ্বাস দেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়গুলি আরও পরিষ্কার করবেন। ফলে সভাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষই ধরে নিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা নিয়ে সরাসরি ঘোষণা আসতে চলেছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হতেই সেই প্রত্যাশা অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যায়। নাগরিকত্বের আবেদন, সিএএ বা ভোটার তালিকায় নাম থাকা-না থাকার বিষয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য শোনা যায়নি। বিষয়টি নিয়েই দ্রুত আক্রমণ শানায় শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, জরুরি কথাটাই আগে বলা দরকার ছিল। তাঁর বক্তব্য, বক্তৃতা ছোট বা অডিয়ো হোক, কিন্তু মতুয়াদের মূল প্রশ্নের উত্তর না দেওয়াটা হতাশাজনক।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh: ওসমান হাদির মৃত্যুর পরই চড়ছে ভারত-বিরোধী সুর, ঢাকার মঞ্চ থেকে যু*দ্ধ ও লালকেল্লা দখলের ডাক!
বিজেপির তরফে অবশ্য এই নীরবতার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, যেহেতু পুরো বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তাই এখন কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সিএএ নিয়ে আবেদন না করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়ী। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, নাগরিকত্ব নিয়ে সরাসরি কথা না বললেও অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে মতুয়া সমাজের সামনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই বক্তব্যে তারা কতটা সন্তুষ্ট, তার উত্তর দেবে সময়ই।





