গত কয়েকদিনে মুর্শিদাবাদের দৃশ্যপট এক অন্য রূপ নিয়েছে। একটার পর একটা অশান্তি, ঘরছাড়া মানুষ, আগুন লাগানো, সম্পত্তি নষ্ট—সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল সেই অঞ্চল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—আইনের প্রয়োগ হলে কেন তা এতটা আতঙ্কের জন্ম দেয়? ওয়াকফ আইন নিয়ে বিরোধের জেরে এই অশান্তি জন্ম নিলেও, তার আঁচ এসে লেগেছে বহু নিরীহ পরিবারে। ভাঙা দরজা, পুড়ে যাওয়া আসবাব আর ভয়ে কাঁটা মুখগুলোর ছবি যেন সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করছে।
এই সব ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের উপরেই বারবার অত্যাচারের বোঝা পড়ছে। রাজনৈতিক মতবিরোধ কিংবা আইনি সংশোধন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই পরিবারগুলো, যাদের কোনও রাজনৈতিক সংযোগ নেই। অথচ শান্তির আশ্বাস, আইনি সহায়তা কিংবা সুরক্ষার বার্তা খুবই সীমিত জায়গা পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপই হয়ে উঠেছে শেষ ভরসা।
এই পরিস্থিতি ঘিরেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় একাধিক জনস্বার্থ মামলা। শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জঙ্গিপুর জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত ২৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে ধরা পড়েছে ২ জন। তিনি দাবি করেন, যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই বাড়ি ফিরেছেন এবং প্রশাসন তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আদালত শুধু এই তথ্যেই সন্তুষ্ট হয়নি।
শুধু পরিসংখ্যানে কাজ হবে না, বাস্তব কী বলছে তা জানতেই হাইকোর্ট তিন সদস্যের একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। এই কমিটিতে থাকবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এবং রাজ্য লিগাল সার্ভিসেস অথরিটির একজন করে প্রতিনিধি। তাঁরা এলাকায় গিয়ে দেখবেন, কোন পরিবারগুলি এখনও ঘরছাড়া, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং কারা এখনও এফআইআর করতে পারেননি। পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাও দেওয়া হবে। তবে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল ও আইনজীবী সংযুক্তা সামন্তর এনআইএ তদন্তের আবেদন আপাতত মানা হয়নি। আদালত জানিয়ে দেয়, কেন্দ্র চাইলে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী তদন্ত শুরু করতেই পারে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : আকাশ কালো, সন্ধ্যার পরেই দক্ষিণবঙ্গে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী! কি বলছে হাওয়া অফিস ?
আদালত তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাজ্যকেই নিতে হবে। কোনও নাগরিক যাতে আতঙ্কে না থাকেন, তা নিশ্চিত করাই রাজ্যের কর্তব্য। পাশাপাশি বিচারপতিরা জানান, প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল চাইলে মালদহে গিয়ে ঘরছাড়া পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৩ এপ্রিল। তার আগে ওই তিন সদস্যের কমিটিকে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এখন অপেক্ষা, আদালতের এই হস্তক্ষেপ মুর্শিদাবাদে শান্তির বার্তা বয়ে আনে কিনা।





