Suvendu Adhikari : হিন্দুরা অস্ত্র ধরুক সীমান্তে? মুর্শিদাবাদে ‘কাশ্মীরের ফর্মুলা’ প্রয়োগে সরব শুভেন্দু, চরম বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি!

একটা সময় ছিল, যখন মুর্শিদাবাদের মানুষ সন্ধে নামলেই হাসি মুখে ঘরে ফিরতেন। আজ সেই এলাকাতেই রাত নামলে অজানা আশঙ্কা গ্রাস করে সাধারণ মানুষকে। সামশেরগঞ্জ, সুতির মতো এলাকাগুলোয় হিংসার আঁচে পুড়ছে রাত-দিন। শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বা প্রশাসনই নয়, এই অশান্তির প্রভাব পড়ছে প্রতিটি সাধারণ ঘরে, স্কুলে, বাজারে। মানুষ চাইছে একটা স্থায়ী সমাধান, কিন্তু পথ যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিগত কয়েকদিনে ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে একের পর এক জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদে। প্রশাসনের তরফে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলেও সাময়িকভাবেই শান্ত হয় পরিস্থিতি। তারপর ফের জ্বলে ওঠে হিংসার আগুন। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কিছু জায়গায় প্রাণহানিও হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে এই অশান্তির খবর। আর সেই পথেই এবার মুর্শিদাবাদের সুরক্ষায় বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের আত্মরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতেই কাশ্মীরের মতো মডেল প্রয়োগ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, যেসব এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যা ২০ শতাংশেরও কম, সেখানে বৈধ অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। তিনি বলেন, ‘‘কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে যেমন স্পেশ্যাল অ্যাক্টের আওতায় অস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্স দেওয়া হয়, তেমনই এখানেও ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ বিএসএফ-সিআরপিএফ সবসময় থাকে না।’’

এখানেই থামেননি শুভেন্দু। তাঁর আশঙ্কা, ‘‘যদি এই ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে যেখানে ১০-১৫ শতাংশ হিন্দু এখনও রয়েছেন, ভবিষ্যতে তাঁরাও থাকতে পারবেন না।’’ তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি স্থায়ী না হলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে? যদিও ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশে বিএসএফ ও অন্যান্য প্যারা মিলিটারি বাহিনী মোতায়েন হয়েছে মুর্শিদাবাদে। কিন্তু তিনি মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর বাইরেও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ Kolkata High Court : ভোটের মুখে বিস্ফোরক মুর্শিদাবাদ! ২৭৪ গ্রেফতার, পরিবার ঘরছাড়া—তবু কেন থেমে গেল কেন্দ্রীয় তদন্ত? উঠছে হাজার প্রশ্ন!

প্রসঙ্গত, হাইকোর্টে শুভেন্দুর তরফে আধাসেনা মোতায়েনের আবেদন জানানোর পর আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয় মুর্শিদাবাদে। প্রথমে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাহিনী মোতায়েনের সময়সীমা ধার্য হলেও, আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশে তা পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে শুভেন্দুর মতে, শুধুমাত্র বাহিনী মোতায়েন যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্মরক্ষার জন্য কাশ্মীরের মডেলে অস্ত্র রাখার বৈধতা দেওয়ার দাবিই এখন তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles