প্রথমে দেখলে বোঝাই যাবে না। সেই একই আদল, একই নকশা, পার্থক্য শুধু একটাই দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের উচ্চতা ১০০ ফুট আর নতুন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের উচ্চতা ৩৫ ফুট। দক্ষিণ কলকাতায় পাটুলি লেকের ধারে এই মন্দির তৈরি করছেন এক মুসলিম শিল্পী।
শিল্পীর নাম মহম্মদ আজাহারউদ্দিন। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার দত্তপুকুরে। এই নতুন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের উদ্বোধন হবে পয়লা বৈশাখের দিন। জোরকদমে চলছে কাজ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। আজহারউদ্দিনকে সাহায্য করছেন অসংখ্য শিল্পী।
হিন্দুদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হল দক্ষিণেশ্বর মন্দির। ভক্তদের আনাগোনা রোজ হয় এই মন্দিরে। এবার শহরতলির বাসিন্দাদের জন্য এই মন্দির তৈরি করার উদ্যোগ নিলেন দক্ষিণ কলকাতার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
এই মুহূর্তে দক্ষিণ কলকাতার ১০১ নম্বর ওয়ার্ড সপ্তাহান্তের অন্যতম আকর্ষণ। পাটুলি ঝিলে ভেনিসের মতো ভাসমান বাজার রয়েছে। ফ্লোটিং মার্কেটের উদ্বোধন করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রয়েছে দশভুজা মূর্তি। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের দ্বৈরথের রেপ্লিকা। দ্বিতীয় হুগলি সেতুর খুদে সংস্করণ। ভিড়ের নিরিখে সন্ধ্যেবেলা নন্দন, রবীন্দ্রসদন চত্বরকেও টেক্কা দেয় পাটুলি চত্বর। এবার সেখানেই হচ্ছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির। যেখানে থাকবে কালীমূর্তিও।
ওই মুসলিম শিল্পীকে তাঁর হাতের কাজ দেখেই পছন্দ করেছেন কাউন্সিলর নিজে। তাঁর কথায়, শিল্পীর কোনও ধর্ম হয় না। তাঁর শিল্পসত্ত্বা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সেই কারণে আজহারউদ্দিনকে দিয়ে নতুন দক্ষিণেশ্বর মন্দির তৈরিতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি কলকাতা পুরসভাকেও। এই মন্দির নিয়ে এখন এলাকার বাসিন্দাদের উত্তেজনা তুঙ্গে।
তবে এই মন্দির নিয়ে সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। সেই বিষয়ে সমাজবিদ মিরাতুন নাহার জানান, যাঁরা এমনটা করবেন তাঁরা প্রকৃত ধার্মিক নন। সমাজবিদ মিরাতুন নাহারের কথায়, “প্রকৃত যিনি ধার্মিক তাঁর কাছে অন্য ধর্ম ঘৃণ্য নয়। ওই শিল্পীকে আমার কুর্নিশ। মানুষ হিসাবে তিনি বিজয়ী”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার