দেশের মধ্যে সবথেকে নিরাপদতম শহর কলকাতাই, কিন্তু মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অনেক পিছিয়ে তিলোত্তমা

ফের একবার দেশের মধ্যে সবথেকে নিরপদতম শহর হিসেবে উঠে এল কলকাতার নাম। ২০২২ সালের ন্যাশানাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যার পিছু ৮৬.৫টি অপরাধের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ভারতের শহরগুলির মধ্যে কলকাতাতেই সবথেকে কম সংখ্যক অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে। এই তালিকায় কলকাতার পর রয়েছে মহারাষ্ট্রের পুনে (২৮০.৭) আর তারপর রয়েছে তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ (২৯৯.২)।   

এনসিআরবি যে রিপোর্ট পেশ করেছে তা অনুযায়ী, কলকাতায় অপরাধের সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২১ সালে এই শহরে প্রতি লক্ষে ১০৩.৪টি অপরাধের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল। এক বছরে কলকাতায় প্রতি লক্ষে অপরাধের সংখ্যা কমেছে ১৬ শতাংশ। 

তবে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখনও পিছিয়ে রয়েছে তিলোত্তমা। এই তালিকায় সবথেকে আগে রয়েছে দিল্লি। সেখানে অপরাধের সংখ্যা ১৪,১৫৮। এরপরই রয়েছে মুম্বই (৬১৭৬), বেঙ্গালুরু (৩৯২৪), জয়পুর (৩৪৭৯), হায়দরাবাদ (৩১৪৫), লখনউ (২২৩১), কানপুর (২০৯৯), পুণে (২০৭৪), কলকাতা (১৮৯০)। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ দমনে ভারতের মধ্যে সবথেকে আগে রয়েছে, তামিলনাড়ুর কোয়াম্বাটোর শহর। ২০২২-এ এই শহরে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঘটেছিল মাত্র ১৩৮টি।

রিপোর্টে জানা গিয়েছে, কলকাতায় থানার সংখ্যা ৮৩ টি। এর মধ্যে মহিলা থানার সংখ্যা ৯টি। স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের থানা ২টি ও সাইবার ক্রাইমের থানা ২টি। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশ আরও ৯টি থানা স্থাপন করতে চলেছে।

এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন বছরে কলকাতায় খু’নের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২০ ও ২০২১-এ কলকাতায় খু’ন হয়েছিল যথাক্রমে ৫৩ ও ৪৫টি। ২০২২-এ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪-এ। ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।

এই রিপোর্ট সম্পর্কে ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, “এতদিনের আইন দিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা হয়েছে দেশে। এনসিআরবি বলছে কলকাতা নিরাপদতম শহর। দিল্লি পুলিশ ব্যর্থ। উত্তর প্রদেশ আর আহমেদাবাদ বিপদের শহর। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আর শাহ বলছেন, আরও সতর্ক থাকতে হবে। যাতে বিরোধিরা মাথা না তুলতে পারে। দাসত্ব কায়েম হয়। এই আইন পাস হলে বলবে, ফর দি পুলিশ বাই দি পুলিশ অব দি পুলিশ। এই দিয়ে দমন হচ্ছে। বাংলায় আমার বাড়িতে হচ্ছে। ভয় দেখাবেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে চলে যাব? না, মৃত্যু পর্যন্ত থাকব। আমার বাড়িতেও তো এসেছিল। কী পেয়েছে? প্রজাতান্ত্রিক ভারতবর্ষর বদলে এবার হবে পুলিশতান্ত্রিক ভারতবর্ষ। এত তাড়াহুড়ো কীসের? আপনাদের নেতা বলেছেন তো আবার ফিরছে। তখন নিয়ে আসতেন এই বিল।

RELATED Articles