কলকাতা শহর গত সোমবার রেকর্ডভাঙা বৃষ্টির কারণে একদিকে যেমন জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল, তেমনি কয়েকটি এলাকা তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছিল। শহরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আর সাধারণ মানুষ সেই দুর্যোগের মাঝেই হাহাকার করছে। এমন পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার সমস্ত সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে বুধবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুজো উদ্বোধনে উপস্থিত হন। চক্রবেড়িয়ার এক পুজো প্যান্ডেলে মহিলাদের অনুরোধে তিনি ‘ডান্ডিয়া নাচ’ করেন। এই ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। মানুষ যখন বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত, শহর জলমগ্ন এবং জীবনহানি ঘটেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই নাচকে অনেকেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কলকাতা ডুবে যাওয়ার এবং ১১ জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টা পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে নাচ করেছেন। এটি গভীরভাবে অসংবেদনশীলতার পরিচয়।” এছাড়াও, বিজেপির অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, “তিনি জনসংযোগের ভান ছাড়াই আচরণ করছেন, যা দেখায় তিনি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে।”
এ বিষয়ে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়াও এসেছে। কুণাল ঘোষ বলেন, “কলকাতায় এমন মেঘভাঙা বৃষ্টি প্রথমবারের মতো হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ জলপাতের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী নগরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছেন। জলমুক্তির কাজ সাত ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিরোধীরা কেন এমন সময় রাজনৈতিক আক্রমণ করছেন?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দিল্লি, মুম্বই বা সুরাটে যদি এমন পরিস্থিতি হত, তাদের রাজনীতির পরিস্থিতি ভিন্ন হত। আমাদের রাজ্যেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : শেষ মুহূর্তে অমিত শাহর পুজো সফরে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন! — তিনটির বদলে এবার দুইটি পুজো উদ্বোধন!
বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন প্যান্ডেলের উদ্বোধন করেছেন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে মাথা ঢেকে উপস্থিতি দেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের এই সমালোচনা মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুখ্যমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডই দেখিয়েছে, ঝুঁকি মোকাবেলা ও দ্রুত কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”





