কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর থেকেই চলছিল বোঝানোর পালা। মাইকিংও করছিল পুলিশ। বলা হচ্ছিল টেট আন্দোলনকারীদের উঠে যেতে হবে। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় মাঝরাতে অভিযান চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিল পুলিশ। অভিযোগ, টেনে হিঁচড়ে সরানো হয়েছে তাদের। কয়েকজনকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে। ৩ জন আন্দোলনকারী নিখোঁজ বলে খবর।
গতকাল, বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট রায়ে জানিয়েছিল যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কার্যালয়ের সামনে যে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, তা কোনওভাবেই অমান্য করা যাবে না। এই মর্মে পুলিশকেও দায়িত্ব দিয়েছিল আদালত। এপিসি ভবনে যাতে সরকারি কর্মী, আধিকারিকরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, তার দায়িত্ব ছিল পুলিশের। অন্যদিকে, আদালতের তরফে এও নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে টেট আন্দোলনকারীদের ধরনার কারণে সেই নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়।
সেইমতো কাজ শুরু করে পুলিশও। প্রথমদিকে মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলা হয়। বারবার হাই কোর্টের রায়ের কথা উল্লেখ করেন পুলিশ আধিকারিকরা কিন্তু তাঁরা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন। ২০১৪-র টেট উত্তীর্ণরা সাফ জানিয়েছিলেন যে চাকরির নিয়োগপত্র না পেলে কোনওভাবেই অনশনের রাস্তা থেকে সরবেন না তারা।
শুধু তাই-ই নয়, ধরনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে রাতেই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন আন্দোলনকারীরা। রাতেই দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। তবে পরবর্তীতে কৌশল বদলান তারা। একসঙ্গে জমায়েত হওয়ার বদলে ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে অনশন রাখেন তারা। রাতের দিকে করুণাময়ীর বিক্ষোভ চত্বরে গিয়েছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
এদিকে আদালতের নির্দেশ মেনে মাঝরাতে বিক্ষোভকারীদের জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। ১৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের সরানো হয়। এই আন্দোলনে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের টেনে হিঁচড়ে সেখান থেকে সরানো হয়েছে। কয়েকজনকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে। ৩ জন আন্দোলনকারীর খোঁজ মিলছে না বলে জানা গিয়েছে।






