আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল খেলায় আবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স প্ল্যাটফর্মে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টে তিনি সোজাসুজি আক্রমণ করেছেন মোদীকে। রাহুলের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়া ভিসানীতি ভারতীয় কর্মীদের সরাসরি চাপে ফেলেছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ বিষয়ে কোনও শক্ত অবস্থান নিতে পারছেন না।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনামায় স্বাক্ষর করার পরেই রাহুলের প্রতিক্রিয়া আসে। তিনি লেখেন, “আমি আবার বলছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুর্বল।” কেন তিনি ‘আবার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাহুল পুরনো প্রসঙ্গও টেনে আনেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় কাশ্মীরকে “অ্যাডমিনিস্টার্ড” বলে উল্লেখ করেছিল আমেরিকা। সে সময়ও ভারতের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়নি। একইসঙ্গে সেই সময়কার মোদী-ট্রাম্প বৈঠকেও ভিসা ইস্যু আলোচনায় না আসার অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল।
ট্রাম্প সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ বার থেকে মার্কিন সংস্থাগুলিকে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে গেলে বছরে এক লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) অতিরিক্ত শুল্ক গুনতে হবে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ভারতীয়রাই। গত বছর মোট অনুমোদিত আবেদনগুলির মধ্যে ৭১ শতাংশই ভারত থেকে গিয়েছিল। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন, সেখান থেকে অনুমোদন পেয়েছে প্রায় ১১.৭ শতাংশ আবেদন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিমধ্যেই চাপে পড়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। আমেরিকায় থাকা কর্মীদের আপাতত সেখানে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে মেটা, অ্যামাজ়ন, মাইক্রোসফ্ট ও জেপি মর্গানের মতো বহুজাতিক সংস্থা। অন্যদিকে যাঁরা দেশের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত আমেরিকায় ফিরতে বলা হয়েছে। সংস্থাগুলির তরফে পাঠানো অভ্যন্তরীণ মেল থেকেই এ তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: “মহালয়ার আগে পুজো উদ্বোধন করে মমতা হিন্দু বিরোধী”–শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণের পর দুর্গা পুজোর উদ্বোধন নিয়ে কি জানেলেন মুখ্যমন্ত্রীর ?
২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই শুধু অ্যামাজ়ন এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলিই প্রায় ১২ হাজার এইচ-১বি ভিসা আবেদন মঞ্জুর করিয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রোসফ্ট, মেটা—সবুজসঙ্কেত দিয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি আবেদনে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক সংক্রান্ত এই নতুন নিয়ম ভারতীয় কর্মীদের আরও বড় সংকটে ফেলবে। আর সেই প্রেক্ষিতেই রাহুলের অভিযোগ—মোদীর দুর্বল অবস্থানের কারণে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।





