নানান সময় দরকারেই হোক বা নিজেদের ইচ্ছেতেই হোক, বাইরের দোকানের খাবার আমরা কমবেশি সকলেই খেয়ে থাকি। যে দোকান থেকে আমরা খাবারটা কিনছি, সেটা কেনার সময় আমাদের মধ্যে সহজাত বিশ্বাস এটাই থাকে যে দোকানদার আমাদের ভালো খাবারই দেবেন। কিন্তু সেই খাবারেই যদি পোকা থাকে বা খাবারটা পচে গিয়ে থাকে, তাহলে কোন ভরসায় মানুষ খাবার কিনে খাবেন।
মাঝে মধ্যেই এমন নানান ভিডিও আমাদের সামনে আসে, যেখানে দেখা যায় নামী দোকান থেকে কেনা খাবারে মিলেছে পোকা বা ছত্রাক বা খাবারটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে অনেক প্রতিবাদ হলেও এমন ঘটনা ঘটা বন্ধ হয়ে যায়নি। এবার এমনই এক ঘটনা ঘটল শিয়ালদহ স্টেশনের এক নামী খাবারের দোকানে যেখানে কী না প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের আনাগোনা। আর সেই পচা খাবারই বিক্রিতে মদত যোগাচ্ছে পুলিশ যা আরও বেশি ভয়ঙ্কর।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে এমন একটি ঘটনা উঠে এসেছে। ওই ভিডিও অনুযায়ী, শিয়ালদহ স্টেশনের এক দোকান থেকে খাবার কেনেন এক যুবক। খাবার প্রায় অর্ধেক খাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন খাবারের মধ্যে পোকা ঘুরছে, এমনকি খাবারটিতে ছত্রাক রয়েছে। এরপর ওই একই খাবার ফের অর্ডার করেন যুবক। আর সেই খাবারেও সেই একই ঘটনা। ছত্রাক ধরে রয়েছে খাবারে।
এই নিয়ে দোকানদারকে অভিযোগ জানালে দোকানদার প্রথমে বলেন, ওসব খারাপ কিছু না, তিনি যেন খাবারটি খেয়ে নেন। ওই যুবক এই ঘটনার ভিডিও করতে গেলে তখন দোকানদারের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায় যুবকের। ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে দোকানের সামনে। কিন্তু সবথেকে ভয়ঙ্কর সময় আসে তখন, যখন রেল পুলিশ সেখানে এসে ওই যুবকের উপরেই চড়াও হয়। রেল পুলিশ তখন সেখানে এসে এই বিষয়ে দোকানদারকে কিছু না বলে যুবককেই শাসাতে থাকেন।
যুবককে ভিডিও বন্ধ করার কথা বলেন, তাঁর মোবাইল কেড়ে নিতে যান তিনি। এমনকি, ওই যুবকের গায়ে হাত দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যেতে চান। এর জেরে যুবকের সঙ্গে তুমুল বচসায় জড়ান ওই রেল পুলিশ। এই গোটা ভিডিওতে ওই রেল পুলিশকে একবারের জন্যও দেখা যায়নি যে তিনি দোকানদারকে কোনওভাবে দোষী করছেন, বা এমন খাবার বিক্রির জন্য দোকানদারকে কোনও কথা বলেছেন বলে।
ভিডিওতে রেল পুলিশকে ওই যুবককে রীতিমতো হুমকি দিতে শোনা যায় যে কেন তিনি এই ঘটনার ভিডিও করছেন। ওই যুবকের অভিযোগ, রেল পুলিশ দোকানের মালিকেরয়ে এই থেকে টাকা নিয়েছেন এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য, সেই কারণেই তাঁকে এমন হেনস্থা করা হচ্ছে। আশেপাশের লোকজনও পুলিশকে এই নিয়ে অভিযোগ জানালে অন্য এক উচ্চ পদমর্যাদার পুলিশ আসেন সেখানে। তিনি গোটা ঘটনাটি শুনে যুবককে বলেন তিনি যাতে থানাতে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এই ঘটনা সম্পর্কে।
এমন ঘটনা হয়ত প্রতিনিয়ত আমাদের অনেকের সঙ্গেই ঘটে চলে। কেউ কেউ এর প্রতিবাদ করেন, কেউ আবার করেন না। কিন্তু প্রতিবাদ করলে যদি পুলিশ অর্থাৎ যিনি আইনের রক্ষক তাদের কাছ থেকেই এমন ব্যবহার পাওয়া যায়, তাহলে তো কারোর প্রতিবাদ করার সাহস বা ইচ্ছা কোনওটাই থাকবে না। পচা, পোকাযুক্ত খাবার বিক্রি করার জন্য ওই দোকানদারকে কিছু না বলে যিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন, তাঁকেই পাল্টা হুমকি দেওয়া, এটা কী সত্যিই আইনসম্মত কাজ? এই নিয়ে তো প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।






