সময় থেমে যায় না, কিন্তু কিছু ক্ষত সময়ের সঙ্গেও শুকায় না। ঠিক যেমন ৯ অগস্ট। প্রত্যেক বছর দিনটা ফিরে এলেই যেন চুপচাপ ছিন্নভিন্ন হয়ে যান তিনি। নিছক একটি তারিখ নয়, এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করে ৯ অগস্ট। বছর ঘুরলেও সেই যন্ত্রণার অবস্থান আজও একই রয়ে গিয়েছে বলে জানান কলকাতার এক নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা, যাঁর মেয়ে কর্মরত অবস্থায় কলেজ চত্বরে ধর্ষিত ও খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধরা পড়ে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু তারপর? নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, সেখানেই থেমে গিয়েছে সবকিছু। মামলার কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। মা জানালেন, অনেকেই ভাবছেন তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন, কিন্তু তিনি মনে করেন, “তদন্তই আদৌ শুরু হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “এটা দুর্ঘটনা ছিল না। ও কাজের জায়গায় ছিল, ওকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ওর অধীনে ৭০-৮০ জন রোগী ছিল, ডিউটির মধ্যে ছিল, তাহলে সারারাত ঘুমোচ্ছিল— এই কথা কি বিশ্বাসযোগ্য?”
এই নারকীয় ঘটনায় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাইরের কেউ এই কাজ করতে পারে না, যদি না ভিতরের কেউ সহযোগিতা করে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন মনোজিৎ মিশ্র ও সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। বলেছেন, “ওরা কলেজে দাপিয়ে বেড়ায়। রাজনীতির হাত ওদের মাথায়।” কলেজ চত্বরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে দুর্নীতি ও অনিয়ম— এমনটাই তাঁর অভিজ্ঞতা।
সরাসরি আঙুল তুলেছেন তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’-এর দিকে। তাঁর দাবি, “এখন প্রত্যেক কলেজেই এই কালচার দেখা যায়। যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের মুখ বন্ধ করতে চায় প্রশাসন।” তাঁর মতে, এই কালচারের বলি তাঁর মেয়ে। কসবার ওই কলেজে ডিউটির সময়েই মেয়েকে আটকে রেখে খুন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : ৫৭ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, আর্জেন্টিনায় রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মাল্যদান মোদির!
ঘটনার তুলনায় উঠে এসেছে ‘তামান্না’-র নামও। নির্যাতিতার মায়ের মতে, যদিও ঘটনাটা আলাদা, তবু তামান্নার মৃত্যুও থ্রেট কালচারেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, “তামান্না বাড়িতে মারা গিয়েছিল। কিন্তু জিতেছে বলে কেন বোমাবাজি করতে হবে? এই সংস্কৃতিই তো আজ প্রাণ নিচ্ছে। আমার মেয়ের পর এমন শতাধিক ঘটনা ঘটেছে।” আজও সেই মায়ের প্রশ্ন— যখন একটি নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটে, তখন কবে মিলবে প্রকৃত বিচার?





