মেটিয়াবুরুজ যেন পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে। বুধবার রাতের ঘটনায় আতঙ্কে ভুগছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল গোটা এলাকা। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে ঘটেছে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এমন উত্তপ্ত পরিবেশেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত সূত্রে খবর, এদিনই হতে পারে সেই মামলার শুনানি। মূলত, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন মেটিয়াবুরুজে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে— এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ রয়েছে, সেই অনুযায়ী মেটিয়াবুরুজেও বাহিনী নামানোর ব্যবস্থা করা হোক।
বুধবার রাতে রবীন্দ্রনগর থানা লাগোয়া অঞ্চলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, একটি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি, দোকান ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আক্রান্ত হন মহিলারা, শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ইটবৃষ্টির মুখে পড়েন কলকাতা ও ডায়মন্ড হারবার জেলার পুলিশ আধিকারিকরা। এই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, দায়ের হয়েছে ৭টি FIR।
এই ঘটনার পরপরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছুটে যান ভবানী ভবনে, রাজ্যের ডিজির সঙ্গে দেখা করার জন্য। তবে ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক। একই চিত্র দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিক ধূলিয়ান ও সামসেরগঞ্জেও। তাঁর দাবি, হিন্দুদের ওপর আস্থা হারিয়েছে সাধারণ মানুষ, তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীই একমাত্র ভরসা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বের পর বিজেপি অচল করবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ Kolkata : সবজি লুঠ, পুলিশের উপর হামলা, মহেশতলায় রণক্ষেত্র! তাণ্ডবের জেরে গ্রেফতার ১৮!
মেটিয়াবুরুজে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে হাইকোর্টের রায়ের উপর। হাইকোর্ট যদি বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়, তবে আজ বিকেলেই মেটিয়াবুরুজে নেমে পড়তে পারে আধাসেনা। আপাতত চোখ আদালতের দিকেই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত, রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসুরক্ষায় কোন পক্ষের বক্তব্য গ্রাহ্য হয়, এখন সেটাই দেখার।





