ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্টে সোমবার এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল। লোটা, কম্বল, ব্যাগ আর বোঁচকা নিয়ে ১০০’ও বেশি মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কেউ ছোট ট্রলি টেনে আনছেন, কেউ আবার নিজের ছোট ছোট জিনিসপত্র মাথায় বেঁধে রেখেছেন। এ দৃশ্য দেখে পাশের লোকেরা অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন, কারণ এক সময় এই সীমান্ত এলাকা ছিল মূলত শান্ত।
স্বরূপনগর থানার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুরো রাজ্যে এবং পাশের পশ্চিমবঙ্গেও SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়, বেআইনিভাবে বসবাস করা বাংলাদেশিরা উদ্বেগে পড়েছেন। অনেকেই স্বীকার করেছেন, তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে আসেছিলেন। খাদ্য বা রোজগারের কারণে লুকিয়ে লুকিয়ে তারা বসবাস করছিলেন, আর এখন এই নতুন প্রক্রিয়ার ভয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রায় তিন শতাধিক বাংলাদেশি হাকিমপুর চেকপোস্টে জড়ো হয়েছেন। ১৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা তাদের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করছেন। অনেকের হাতে কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্ট নেই, তাই তারা সীমান্ত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ভিড় আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি শুধু সীমান্ত এলাকার নয়, পুরো স্বরূপনগরের মানুষের জন্যও আশ্চর্যজনক পরিস্থিতি।
বাংলাদেশি নাগরিক সাবিনা পারভিন জানান, “বাংলাদেশে আমার বাড়ি। বিরাটি থাকতাম। আমার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই, বেআইনিভাবে থাকতাম। এখানকার লোকের বাড়িতে কাজ করে রোজগার করতাম।” অন্য একজন বলেন, “চিনারপার্কে থাকতাম। এখানে থাকা শুধু পেটের দায়ে ছিল। আধার কার্ড নেই আমার কাছে। এখন SIR প্রক্রিয়ার ভয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।” এই ধরনের মন্তব্য স্পষ্টভাবে দেখায়, খাদ্য ও জীবনের প্রয়োজনে অনেকে বেআইনিভাবে ভারতীয় সীমান্তে বসবাস করছিলেন।
আরও পড়ুনঃ Kerala : ‘রেড শ্রীলেখা’ কেরল পুলিশ থেকে সরাসরি ভোটের ময়দানে! অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কি বিজেপিকে জয়ের পথে এগিয়ে দিতে পারবেন?
নিয়ন্ত্রকরা বলছেন, SIR প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন মূলত সীমান্তে বেআইনিভাবে থাকা নাগরিকদের সনাক্ত করার জন্য। এর ফলে এখন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় ফিরে যাচ্ছেন। সীমান্তের এই ছবি শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রভাবই দেখায় না, এটি স্থানীয় সমাজের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। লোটা-কম্বল, ট্রলি ও পরিবারের সাথে সীমান্ত পার হওয়ার এই দৃশ্য দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে নিয়ম-কানুন ও নথিপত্রের গুরুত্ব মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।





