‘পড়াশোনার থেকেও আগে দরকার নিরাপত্তা’—এই বার্তা নিয়েই ফের সরব হলেন সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ছাত্রীরা। সাম্প্রতিক ‘গণধর্ষণ’ (Gangrape Incident) কাণ্ডে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর, এবার সামনে এল ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নয়, ভয় ধরেছে তাঁদের—”আমরা তো বেরিয়ে যাব, জুনিয়রদের কী হবে?”
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক অভিযোগের বন্যা বইয়ে দেন কলেজের বেশ কিছু ছাত্রী। তাঁদের অভিযোগ, কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ খুব সাধারণ ঘটনা। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের বাধাও দেন না। এমনকি ঘটনার আগেও, কলেজ চত্বরে দু’জন বাইরের ছেলে ঢুকে পড়েছিলেন দুই ছাত্রীকে নিয়ে। সেদিনও নিরুত্তর ছিলেন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁরা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এত বড় কাণ্ড ঘটে যাওয়ার পর এখন কলেজে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে, এতদিন শুধু মূল গেটেই ক্যামেরা ছিল।
ছাত্রীদের দাবি, কলেজে পড়াশোনার চরম অবনতি ঘটেছে। সেমিনার, প্র্যাকটিক্যাল বা শিক্ষণীয় পরিবেশ কিছুই অবশিষ্ট নেই। কর্তৃপক্ষ কোনও দায় নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণ কলেজ কর্তৃপক্ষের। এর ফলে ছাত্রীরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ কলেজে আসতেই চাইছেন না।
এইসব অভিযোগ নিয়েই ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ছাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, যদি তিনি সময় না দেন বা পদক্ষেপ না নেন, তাহলে কলেজে শান্তিপূর্ণ মিছিল করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়া হবে। এই বিষয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই লিখিত ভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Kharagpur : তৃণমূল নেত্রীর হাতে প্রবীণ নেতা রাস্তায় লাঞ্ছিত! মুখে কালি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড় খড়্গপুরে!
ইতিমধ্যে, ঘটনার জেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, সমস্ত বিএএলএলবি এবং এলএলএম ক্লাস আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলেজ চত্বর সব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বন্ধ থাকবে। ঘটনা তদন্তাধীন, কিন্তু তার আগেই ছাত্রীদের এই সম্মিলিত প্রতিবাদ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কি কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন?





