সরস্বতী পূজো, যা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক বিশেষ গুরুত্বের উৎসব, সেই দিনটির উদযাপন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি আনন্দময় মুহূর্ত হয়ে থাকে। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসাহ ও আনন্দের সঙ্গে পূজার আয়োজন করা হয়। তবে, এই বছরের সরস্বতী পূজোটি কিছুটা আলাদা ছিলো, কারণ সেখানে ছিল নানা বিতর্ক এবং উত্তেজনা। যেহেতু শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তাই পুরো আয়োজনটি পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
এ বছর, কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজে সরস্বতী পূজোর আয়োজন পুলিশি নিরাপত্তায় করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে এই আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছিল, যা কলেজের আইন বিভাগের পক্ষ থেকে ছিল। তবে, কলেজের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে দাবি করে যে, তাদের ক্যাম্পাসে পূজো করার অনুমতি না দেওয়ার ফলে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ছাত্র-ছাত্রীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান তুলতে শুরু করে।
এই উত্তেজনার মূল কারণ ছিল কলেজের ভেতরে ও বাইরে বহিরাগতদের উপস্থিতি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা লোকজন তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। কলেজের ছাত্ররা বলছিলেন, এর মাধ্যমে তাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং ক্লাসে যাওয়া রোধ করা হচ্ছে। তারা দাবি করে যে, কলেজ কর্তৃপক্ষকে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে, যাতে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ মালা রায় কলেজে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারী ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং স্লোগান দেওয়া শুরু করে। তবে, ব্রাত্য বসু শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, তাদের অভিযোগ শুনে ও সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে যান। তার সাথে চারজন বিক্ষুব্ধ ছাত্রকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে, যেখানে আলোচনা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ মা সরস্বতী কামের দেবী! মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য! কিন্তু জানেন কী পুরনো কলকাতায় সরস্বতী পূজিত হতেন কোথায়?
এদিকে, মালা রায় প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, ছাত্রদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। তার মতে, শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের পড়াশোনার প্রতি মনোনিবেশ করা এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষামন্ত্রী একে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করতে কাজ করেছেন। তবে, যোগেশচন্দ্র কলেজের এই ঘটনা রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা আরও সময়ের মধ্যে পরিষ্কার হতে পারে।





