আজ বাগদেবীর আরাধনা। আজ বাঙালি সমাজে দারুণ খুশির দিন। বিদ্যা, বুদ্ধি, শিল্প, গান সব ক্ষেত্রেই আরাধনার দেবী তিনি। বিশেষ করে ছাত্র, ছাত্রী তরুণদের কাছে এই দিন বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আজকের দিন বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ও বটে! আজকের দিনে বাসন্তী রাঙা শাড়িতে মেয়েরা, পাঞ্জাবিতে ছেলেদের দেখা মেলে।
তবে বাঙালির এই উৎসবকে ঘিরে রয়েছে এক বড় ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসকেই খুঁচিয়ে দিয়েছেন প্রতিথযশা অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য। অভিনেতা মা সরস্বতীকে বিদ্যার দেবীর পরিবর্তে কামের দেবী উল্লেখ করেছেন। তবে এই কথায় সৃষ্টি হয়েছে বিরাট বিতর্ক। অভিনেতার কথা কতটা সত্য? আদৌ কী কামের দেবী ছিলেন মা সরস্বতী? তাহলে জেনে নিন ইতিহাস।
উল্লেখ্য, আদি কলকাতায় কিন্তু আজকের মতো সরস্বতী পুজো রাস্তার মোড়ে মোড়ে হতো না। শুধু কী তাই কোনও গৃহস্থ বাড়িতেও কিন্তু সরস্বতী বন্দনা হত না। তাই এখনকার মতো পুজোয় পুরোহিত নিয়ে টানাটানি করার মতো সমস্যাও ছিলনা। বলাই বাহুল্য তখনকার দিনে সরস্বতী পুজোয় পুরোহিতদের অনীহা ছিল। আসলে দেবী সরস্বতী তখন ছিলেন নিষিদ্ধপল্লীর আরাধ্যা। বাবুবিলাসের কলকাতায় বিদ্যার দেবী আসলে চৌষট্টি কলা অধ্যয়নের আগে পূজিত হতেন। আর তাই দেবী ছিলেন নিষিদ্ধ পল্লীর আরাধ্যা। উল্লেখ্য, বাৎস্যায়ন কামশাস্ত্রে লিখেছেন, কামদেবের আরাধনার জন্য চৌষট্টি কলার অধ্যয়নের কথা। আর সেই কলা অধ্যয়নের সূচনার দিন ছিল সরস্বতী পুজো।
আরও পড়ুনঃ বাম শাসনে নৃশংস ব়্যাগিং! মিহিরের আ’ত্মহত্যায় ক্ষোভ, সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা!
পুজোর আগে থেকেই জমজমাট থাকত নিষিদ্ধপল্লী । বসত নাচ-গান-যাত্রার আয়োজন। আশপাশ ম ম করত বেলফুলের গন্ধে। মদের গেলাসে ঠনঠন শব্দ । এলোমেলো হয়ে যাওয়া ময়ূরপুচ্ছ ধুতি । আর পুজোর দিনে হুড়োহুড়ি । নিষিদ্ধপল্লীতে ‘বারাঙ্গনা’-দের সরস্বতী পুজোর জন্য ‘গৌরী সেন’ বাবুরা কার্যত ‘কল্পতরু’ হয়ে যেতেন । সেইদিন তারা ছিলেন মুক্ত হস্ত উপপত্নীকে কে কীভাবে রাখে সরস্বতী বন্দনার থেকেও তা প্রমাণের তাগিদটা ছিল বেশি। আর তাই তথাকথিত ভদ্র বাড়িতে মা সরস্বতী ছিলেন ব্রাত্য। যদিও সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গৃহস্থের বাড়িতে কদর পান মা। হয়ে ওঠেন শিক্ষা, শিল্পের দেবী।





